প্রধানমন্ত্রীর কথায় কষ্টটা লাঘব হয়েছে, শেষ হয়নি: শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শামীম ওসমান বলেছেন, ‘রাজনীতি মানে প্রভুত্ব দেখানো না। রাজনীতি মানে জমিদারি দেখানো না। রাজনীতি মানে, আমি কি হনুরে ভাবাও না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি মানে মানুষের মনের ভেতরে স্থান করে নেওয়া। রাজনীতি মানে হচ্ছে ইবাদত। রাজনীতি মানে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সেবা করা, মানুষের মন জয় করে সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করা।’

‘সেই রাজনীতি করতে পেরেছিলেন আমার পিতা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম শামসুজ্জোহা ও বড় ভাই নাসিম ওসমান’ যোগ করেন শামীম ওসমান।

একেএম শামসুজ্জোহার ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুরে বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিবারবর্গের আয়োজনে মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছি। এতদিন এত কষ্ট লাগতো না, এখন কষ্ট একটু বেশি লাগে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটা ঘটনা হয়েছিল। আমার বাবা, আমার মা, আমার ভাইসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের ওপরে শ্মশানের মাটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি জানি, আমি শামীম ওসমান কি করতে পারি, দু-চারটা ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’

‘কিন্তু আমি কিছু বলিনি। শুধু বলেছিলাম একজনকে সাক্ষী রেখে গোপনে আল্লাহর কাছে মাফ চাও, যাতে রোজ কেয়ামতে, হাশরের ময়দানে গিয়ে আমি আমার বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলতে পারি রাজনীতিতে আমি আপস করি নাই’ যোগ করেন স্থানীয় এই এমপি।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন- তোমার বাবা কি শুধু তোমার বাবা, আমার চাচা না? তোমার বাবা কি শুধু তোমাদের জন্য রক্ত দিয়েছে, নাকি আমাদের জন্যও রক্ত দিয়েছে? মনে রাখবা- আমি তোমাকে বলছি, আল্লাহ উনাকে বেহেশত নসিব করবেন।’

‘১৬ কোটি মানুষের অভিভাবক উনি (শেখ হাসিনা), আল্লাহ ওয়ালা মানুষ উনি। কী পরিমাণ আল্লাহ ওয়ালা, আমি জানি। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। উনি বলেছেন- তুমি মনে কষ্ট রাখবা না। উনার কথায় আমার কষ্টটা লাঘব হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি’ যোগ করেন শামীম ওসমান।

দোয়া মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একেএম শামসুজ্জোহার মেজো ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএর সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুদরত এ খোদা, বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিপক চন্দ্র সাহা, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা, মুছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সালাম প্রমুখ।