সম্পত্তির জন্য প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের ‘নির্যাতন’, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শিল্পপতি

সম্পত্তির জন্য প্রথম স্ত্রীর নয় সন্তানের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মো. সাইজুদ্দিন মিয়া নামে এক বৃদ্ধ শিল্পপতি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই আকুতি জানান।

সাইজুদ্দিন বলেন, সন্তানরা ভাড়া করা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর, তার দ্বিতীয় স্ত্রী গুলনাহার আক্তার আঁখির হাত এবং ছেলে আতিকুল ইসলাম শান্তর পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া বাসার কাজের মেয়ে শাহিনুর আক্তারকে মারধরের কারণে তার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

‘বাবা, সৎ মা ও সৎ ভাইকে মারধর করে এক ঘরে বন্দি করে রাখে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনস্থল রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকার বাড়িতে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়’ যোগ করেন তিনি।

বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তার কারণে রূপগঞ্জের নিজ বাড়িতে না থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলেও জানান সাইজুদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে সাইজুদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী গুলনাহার আক্তার আঁখি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রয়াত প্রথম স্ত্রীর গর্ভের ৩ ছেলে ও ৬ মেয়ে সম্পত্তি লিখে দিতে শিল্পপতি সাইজুদ্দিন, তাকে এবং তাদের একমাত্র ছেলে আতিকুল ইসলাম শান্তকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে শিল্পপতি সাইজুদ্দিন মিয়ার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ১৯৯১ সালে আঁখিকে তিনি বিয়ে করেন। এ সংসারে তার এক ছেলে। রূপগঞ্জের কাঞ্চনে সাইজুদ্দিন মিয়ার ‘সাইজুদ্দিন ও শান্ত টেক্সটাইল’ নামে দু’টি কাপড়ের মিল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সাইজুদ্দিন মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি প্রথম পক্ষের সন্তানদের লিখে দিতে বারবার তাকে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এজন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সন্তানদের হুমকির কারণে আদালতে ৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এতে বলা হয়, মামলা করে বাসায় ফেরার পরেই প্রথম পক্ষের তিন ছেলে রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম বাবু ও শাহজাহান মিয়া এবং মেয়ে রাহিমা আক্তার ও শাহারা আক্তার ডেইজীসহ তিন ছেলের স্ত্রী একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় নিরাপত্তার কারণে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে না পেরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন সাইজুদ্দিন। নারাজির প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সাইজুদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানরা ঘরে থাকা সিন্দুক ভেঙে দলিলপত্র, এনআইডি কার্ড এবং ব্যাংকের চেক বইসহ জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়।

এমনকি দুই মিলে উৎপাদিত দুই কোটি টাকা মূল্যের কাপড় বাজারে মাত্র এক কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয় তারা। বর্তমানে ওই সন্তানদের কব্জায় তার দুইটি মিলসহ স্থাবর সম্পত্তিগুলো রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাবার ওপর হামলা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে সাইজুদ্দিনের বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলবো না। আমার কিছু বলার নেই। আপনারা এলাকায় এসে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করুন।’

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও সাইজুদ্দিনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিরাজ বলেন, ‘আমি মামলাটি তদন্ত করে গত মাসেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছি।’

কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলি বলেন, শিল্পপতি সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে তার প্রথমপক্ষের সন্তানদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওয়ারিশ হিসেবে বাবার কাছ থেকে সম্পদ পেতে তারা আমার দ্বারস্থ হয়েছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।