লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ঠাণ্ডায় প্রাণ হারানো জহিরুল ইসলাম শুভর (২০) মরদেহ দেশে এসেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ আসার পর গতকাল সোমবার মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। এ নিয়ে তিনজনের মরদেহ মাদারীপুরে আসার পর দাফন করল পরিবার।
শুভর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চতুরপাড়া গ্রামে। বাবার নাম শাহজালাল মাতুব্বর। লিবিয়ার বন্দিশালায় থাকা অবস্থায় ছেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘শুভ ফোন করে বলছিল আব্বা আগের দিন ভাতের জাউ আর একটা আলুসিদ্ধ খাইছি। গতকাল কোনো খাওন দেয় নাই। আইজ ভাত দিব কইলেও কারেন্ট নাই দেখে পারে নাই।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুভ মাধ্যমিকে ৪ দশমিক ৫৫ ও উচ্চ মাধ্যমিকে ৪ দশমিক ৬৫ পায়। বাবা স্থানীয় এনজিওতে চাকরি করে চারজনের সংসার চালাচ্ছিলেন। বাড়িতে গিয়ে শিক্ষার্থী পড়ানোসহ নানাভাবে সংসাদের হাল ধরার জন্য শুভ চেষ্টা করছিলেন।
বাবার আক্ষেপ, ‘মেধাবী ছেলে আমার অনার্স প্রথম বর্ষেই দালালের খপ্পরে পড়ে। গত বছর ২৬ ডিসেম্বর ইতালির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। এরপর সারা জীবনের জন্য হারায়ে গেল। অভাব দূর করতে গিয়ে সে আমাদের সবার জন্য কষ্টের পাহাড় উপহার দিল।’
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিন জানান, তারা যোগাযোগ করে মৃতদের পরিবারকে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন।
গত ২৪ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে ট্রলারে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন ২৭৩ বাংলাদেশি ও মিসরের ৩ জন। ভূমধ্যসাগরে ঝড়বৃষ্টির কবলে ৬ ঘণ্টা আটকে থেকে তাদের মধ্যে ঠাণ্ডায় মারা যান সাত বাংলাদেশি। মৃতদের পাঁচজনই মাদারীপুরের বাসিন্দা। বাকি দুজন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।