যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে দিল স্বামী

লক্ষ্মীপুরে যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে ভিকটিম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ ননদ পাখি বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, নির্যাতিত নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, সাড়ে তিন বছর আগে ভোলার ইলিশা এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে বিয়ে হয় লক্ষ্মীপুর সদরের চররমনি মোহন এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চন মাঝির ছেলে মো. হাসানের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী হাসান যৌতুকের দাবি করলে একবার ৫৫ হাজার ও পরে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর হাসান ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা আনার জন্য স্ত্রীর ওপর আবার চাপ সৃষ্টি করে। স্ত্রী অপারগতা জানালে তাকে মারধরসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন তার শাশুড়ি, ননদ ও স্বামী হাসান। গত রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে হাসান। বেধড়ক মারধরের একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে কাঁচি দিয়ে গৃহবধূর চুল কেটে দেন তারা। পরে বিষয়টি যাতে থানা পুলিশ এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে বিচার চাইতে না পেরে তার জন্য হাসান বাড়িতে তার স্ত্রীকে বেঁধে রাখেন। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চিৎকার শুনে  প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন।

ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী মো. হাসান মাদকাসক্ত ও জুয়াড়ি। বিয়ের পর যৌতুকের দাবি করলে প্রথমে ৫৫ হাজার টাকা এবং পরে আবার ১০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। পরে আবার যৌতুকের দাবিতে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি অপারগতা জানান। এর জন্য তাকে মারধরসহ মাথার চুল কেটে দেয় তারা। ওই দিন নির্যাতনের ১৫ ঘণ্টা পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনদের সহযোগিতায় উদ্ধার হন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা জানান, মেয়ে সুখে ঘর করবে বলে বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামীর নির্যাতন সইতে হচ্ছে তাকে। মেয়েকে স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে এ পর্যন্ত  পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন তারা আরো তিন লাখ টাকা চাইছে। মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনা শুনে তিনি হতবাক। নিষ্ঠুর নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, গৃহবধূকে এ বিষয়ে তিনি মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার  ড. এ,এইচ,এম কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তার স্বামী, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামীকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।