ইতালি থেকে আরও এক লাশ মাদারীপুরে

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ঠাণ্ডায় প্রাণ হারানো সাফায়েত মোল্লার (২০) মরদেহ দেশে এসেছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ আসার পর গতকাল মঙ্গলবার মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ নিয়ে চারজনের মরদেহ মাদারীপুরে আসার পর দাফন করল পরিবার।

সাফায়েতের বাড়ি রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ কেস্টপুর গ্রামে। মরদেহ গ্রামে আসার পর ভিড় করেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

কফিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে সাফায়েতের বড় বোন আকলিমা খাতুন বলেন, ‘আমার আদরের ভাই ছিল সাফায়েত। অনেকবার এভাবে বিদেশ না যেতে বলেছি। ও আমার কথা শোনেনি। বন্ধুরা গেছে, সেই লোভে বাবা-মাকে চাপে ফেলে লিবিয়া হয়ে ইতালি যায়। আদরের ভাইয়ের লাশ এলো, আমাদের সব শেষ।’

সাফায়েতের দুলাভাই রাসেল মিঞা বলেন, ‘দালালরা সাফায়েতের মৃত্যুর খবর অনেক দিন গোপন রেখেছিল। তারা বরাবর আশ্বাস দিয়েছে, সাফায়েত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। পরে আমরা সাফায়েতের সঙ্গে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় বেঁচে ফেরা একজনের কাছ থেকে তার মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত হই।’

মাদারীপুর পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল জানান, ভুক্তভোগীদের পরিবার অভিযোগ দিলে দেশি দালালদের বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘ইতালি থেকে একজনের লাশ আসার তথ্য আমাদের দেওয়া হয়। তার বাড়ি গিয়ে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বাকিদের বিষয়ে আমাদের এখনো জানানো হয়নি।’

গত ২৪ জানুয়ারি লিবিয়া থেকে ট্রলারে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন ২৭৩ বাংলাদেশি ও মিসরের ৩ জন। ভূমধ্যসাগরে ঝড়বৃষ্টির কবলে ৬ ঘণ্টা আটকে থেকে তাদের মধ্যে ঠাণ্ডায় মারা যান সাত বাংলাদেশি। মৃতদের পাঁচজনই মাদারীপুরের বাসিন্দা। বাকি দুজন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।