বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত জানুয়ারি মাসে ১১টি জেব্রা একটি বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গাজীপুরের প্রাণী মৃত্যু রোধ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য করণীয় বিষয়ে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রাণী মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলা করা হবে।
এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বর।
তদন্ত কমিটির স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ গুলো হচ্ছে- প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল দ্রুত পদায়ন করা; আক্রান্ত রোগ সমূহ ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য একজন ভেটেরিনারি এপিডেমিওলজিস্ট সাফারি পার্কে সংযুক্তি। নিরাপত্তা কর্মী, অ্যানিমেল স্কাউট বা এটেন্ডেন্টসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংযুক্তি বা পদায়ন করা।
প্রাণী খাদ্যের সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ, বিতরণ ব্যবস্থা উন্নত ও স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি অফিসারকে নিয়ে ৪-৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী প্রাণী খাদ্য গ্রহণ কমিটি গঠন করা।
প্রাণী ও পাখির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১০ দফা নির্দেশনা: ঘাস পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে চপার মেশিনে কেটে সরবরাহ করা, দানাদার খাদ্য ও সরবরাহকৃত মাংসের গুণগত মান যাচাই, জেব্রার জন্য পৃথক বেষ্টনী নির্মাণ, সরবরাহকৃত শাকসবজি, ফলমূল ও ঘাস ধৌত করার চৌবাচ্চা নির্মাণ, মুক্ত স্থানে ঘাস চাষ, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষা করতে ডিজিটাল ডিভাইসে সকলকে সংযোগ করা। পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ সমস্ত স্টাফদের নিয়ে প্রতি মাসে একবার সভা আহ্বান। অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান বন সংরক্ষককে লিখিতভাবে অবহিত করা। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ ভেটেরিনারিয়ানদের সমন্বয়ে ভেটেরিনারি মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন করা।
মধ্য-মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- প্রয়োজনীয় ভেটেরিনারি ওষুধ ও যন্ত্রপাতি মজুত, ডায়াগনস্টিক কীট- রি-এজেন্টসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সংস্থান রেখে ভেটেরিনারি মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন, জরুরি প্রয়োজনে দেশের অভ্যন্তর থেকে ভেটেরিনারি এক্সপার্ট এবং ওয়ার্ল্ড লাইফ বায়োলজিস্টকে সম্পৃক্ত করা, মৃত প্রাণীর যথাযথ অ্যান্টিমর্টাম এবং পোস্টমর্টাম পরীক্ষা আরও বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা।
দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- দক্ষতা উন্নয়নে কর্মকর্তাদের প্রাণী চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার জন্য দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ভেটেরিনারি চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল রেফারেন্স বই (ভেটেরিনারি মেডিসিন, সার্জারি, প্যাথলজি, মাক্রোবাইয়লজি, প্যারাসাইটোলজি ইত্যাদি) সহ দেশি বিদেশি জার্নাল সংগ্রহের মাধ্যমে একটি মিনি লাইব্রেরির ব্যবস্থা রাখা। ভেটেরিনারি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের প্রতি দুই মাস অন্তর বোর্ড মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা।
জরুরি ভিত্তিতে আকাশমনিসহ অপ্রয়োজনীয় বৃক্ষ অপসারণ, বন্যপ্রাণী সহায়ক বাগান তৈরি। শিয়ালসহ বহিরাগত প্রাণীর প্রবেশ বন্ধ করতে বেষ্টনী নির্মাণ। পার্কের অভ্যন্তরে যত্রতত্র গো-চারণ ও মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পার্ক চত্বরে ২৪ ঘণ্টা অবস্থানের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা রাখা।