মৃত্যু কত প্রকার, সেটা বলে বোঝানো সম্ভব না: ইউক্রেন ছেড়ে আসা বাংলাদেশি

বাংলাদেশি আরিফ চৌধুরী ইউক্রেন থেকে পালিয়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি কিয়েভ থেকে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেখানকার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। 

সোমবার সন্ধ্যায় ১৩ বাংলাদেশিসহ তিনি পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে পৌঁছান।

তিনি ডয়চে ভেলের সাংবাদিককে বলেন, আমার সঙ্গে ১৩ জন প্রবেশ করেছেন। তাদের ছয়জন নারী, দুজন শিশু। বাকিরা শিক্ষার্থী ছিল, ওরা পার হতে পারেনি। ওদের জন্য আমি অপেক্ষা করছি। 

নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রা ছিল। আমার নতুন জন্ম হয়েছে। মৃত্যু যে কত কাছ থেকে দেখেছি, মৃত্যু যে কত প্রকার হতে পারে, সেটা এ পরিস্থিতিতে না গেলে বলে বোঝানো সম্ভব না। আমরা ঠিক এমন পরিস্থিতি দেখে আসছি। ঘুমিয়ে গেছি এর মধ্যেই বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি।... রাশিয়া বাড়ি ঘরে হামলা শুরু করেছে। বাসা-বাড়িতে ঢুকে গুলি করছে। যার জন্যই সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি৷’

আরিফ জানান, পোল্যান্ডে বাংলাদেশের দূতাবাসের কাছ থেকে তারা সহায়তা পাচ্ছেন। ইউক্রেনে বাংলাদেশের কনস্যুলারও তাদের সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ইউক্রেন সীমান্তে নানা সংকট হলেও পোল্যান্ডে ঢুকতে তাদের সমস্যা হয়নি।

পোল্যান্ডের রেল স্টেশনে অবস্থান করা আরেক বাংলাদেশি শিকার্থী আবু বকর বলেন, ‘আমি কিয়েভে থাকতাম। কিয়েভের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। আমরা জীবনের নিরাপত্তার জন্য দূতাবাসের জন্য যোগাযোগ করি। আমার পাসপোর্টসহ সব ডকুমেন্টসই আছে। তখন ওরা (পোল্যান্ড) আমাদের ১৫ দিনের ট্রাভেলিং ভিসা দিয়ে দিয়েছে।’

এদিকে ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ঢলের কারণে দেশটির বিভিন্ন সীমান্তে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। যার কারণে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার হেঁটে পোল্যান্ডে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাদের। মেডিকা সীমান্ত দিয়ে পোল্যান্ডে আসা বাংলাদেশের মোশাররফ হোসেনও এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ অভিবাসীর সঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় সীমান্ত অতিক্রম করেন।   

সেখানে আরেক বাংলাদেশি শেখ নাসের উদ্দিন ডয়চে ভেলের কাছে তার যাত্রার ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘ইউক্রেনীয়দের আলাদা লাইনে ইমিগ্রেশনে নেয়া হয়। সেখানে ওদের ডকুমেন্টও পরীক্ষা করা হয় না। আমরা যারা বিদেশি আছি তাদের আলাদাভাবে ডকুমেন্ট পরীক্ষা করা হয়৷ সীমান্তে খুবই ভোগান্তি। আমি ছয় দিন ছয় রাত থেকে..খাওয়া-দাওয়া ঘুম নাই, ঠান্ডার মধ্যে থেকে এসেছি। এ ছয়দিন রাস্তাতেই ছিলাম লভব সীমান্তের অংশটুকুতে। উন্মুক্ত জায়গায় ছিলাম।’

শুধু বাংলাদেশি নন এমন দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়েছেন মেডিকায় পৌঁছানো ভারতীয় শিক্ষার্থী শীতল। 

তিনি বলেন, সীমান্ত অতিক্রমে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে। ভারি ব্যাগ নিয়ে আসাটা ছিল খুবই কষ্টকর। আমি হাঁটতেও পারছিলাম না ঠিকমতো।

সীমান্তে ইউক্রেনীয় নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে কয়েকজন ভারতীয় মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শীতল সেখানে ছিলেন বলে জানান। 

তিনি দাবি করেন, অভিবাসীরা অধৈর্য্য হয়ে ওঠার কারণে এক পর্যায়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় নিরাপত্তকর্মীরাও তাদের দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে রোববার পোল্যান্ডে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন ডয়চে ভেলেকে জানান, সেদিন স্থানীয় সময় বিকাল পর্যন্ত চার শ বাংলাদেশি পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। গত দুইদিনে যা আরো বেড়েছে। পুর্ব

ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে ঠিক কতজন বাংলাদেশি বাস করেন তার সঠিক হিসেব জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এ সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের মতো।