পাবনায় মাশরুম চাষে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল হালিম। পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফলতা আসায় গড়েছেন বাণিজ্যিক খামার। মাত্র দুই বছরেই নিজে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কর্মসংস্থান করেছেন অন্যদের। পাশাপাশি আব্দুল হালিমের সাফল্য অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন বেকার যুবকদেরও।
পাবনার চাটমোহরের প্রত্যন্ত গ্রাম হান্ডিয়ালের বাসিন্দা আব্দুল হালিম। করোনায় চাকরি হারানো বেকার জীবনের হতাশা দেখে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা যেন সিনেমার কাহিনীর মতো এলাম দেখলাম আর জয় করলাম।
ব্যবসায় বাজিমাত হলেও আব্দুল হালিমের সাফল্যের পথটা ফুল বিছানো নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন শেষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা পদে চাকরি পান। কিন্তু বছর না ঘুরতেই করোনার মন্দায় চলে যায় সে চাকরি। কোথাও কাজ না পেয়ে কয়েক মাস পর বাড়ি ফিরে স্বল্প পরিসরে শুরু করেন মাশরুম চাষ। আর তাতেই ভাগ্য খুলে যায় হালিমের।
হান্ডিয়ালের মাশরুম খামারে গিয়ে কথা হয় আব্দুল হালিমের সঙ্গে।
তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনেই চাকরি করছিলাম। করোনায় হঠাৎ করেই চাকরি চলে যাওয়ার পর কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে পড়ি। তখন সময়টা চরম হতাশায় কাটছিল। পরে কয়েকজন বন্ধুর পরামর্শে সাভারের মাশরুম উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপর বাড়ি ফিরে ৫০টি স্পন প্যাকেট নিয়ে ২০২০ সালে মাশরুম চাষ শুরু করি। লাভবান হওয়ায় আমি এখন পুরোদস্তুর মাশরুম চাষি।
আব্দুল হালিম আরও জানান, বসতঘরের ছোট একটি জায়গায় মাশরুম চাষ শুরু করার পর বুঝতে পারি এ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। পরে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা থেকে ঋণ নিয়ে পরিসর বড় করে বাণিজ্যিক খামার তৈরি করেছি। আশার কৃষি কর্মীরা কারিগরি পরামর্শ ও বাজারজাতকরণেও সহযোগিতা করছে।
‘এখন আমার খামারে ৪ জন শ্রমিক কাজ করে। তাদের বেতন বাবদ বিশ হাজার টাকা খরচের পরও আমার প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশার জ্যেষ্ঠ কৃষি প্রশিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ হতে ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। ২ কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় ২ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। সে হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ কেজি মাশরুম বিক্রি করা যায়। প্রতিকেজি কাঁচা মাশরুম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ও শুকনো মাশরুম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে।
‘স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়, তাই বেকার যুবকেরা মাশরুম চাষ করে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন। সরকারের পাশাপাশি আমরাও কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছি।’
তরুণ উদ্যোক্তা হালিম আরও বলেন, মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম বীজ (স্পন) উৎপাদন করেন তিনি। তার উৎপাদিত মাশরুম বীজ (স্পন) দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মাশরুম খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি এবং লাভজনক ব্যবসা। তার মাশরুম চাষ দেখে এলাকায় অনেক বেকার যুবক আগ্রহী হচ্ছে এ পেশায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য কোনো উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না।
বসতঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। উপজেলায় বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে ১২টি পয়েন্টে মাশরুম চাষ হচ্ছে। তা থেকে প্রায় দুই মেট্রিকটন মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে।