নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় আটক জোবায়েরকে (২৬) আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
নিহত রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বাদী হয়ে বুধবার এ হত্যা মামলাটি করেন। পরে পুলিশ ওই মামলায় আটক জোবায়েরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জোবায়ের শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা; তিনি ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। পরে আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ জামান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জে ডালপট্টি এলাকায় স্বপন দাসের মালিকানাধীন ৬ তলা ভবনে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তার মেয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী (২২)। দুজনের মধ্যে একজনের মরদেহ মেঝেতে ও অপরজনের মরদেহ অর্ধেক খাটের ওপর পড়েছিল। পুরো ফ্লোর ছিল রক্তমাখা। ওই ঘটনায় রক্তমাখা ছুরিসহ জোবায়েরকে এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু বলেন, টাকা ও সোনাদানা লুট করতে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার জোবায়ের।
জিজ্ঞাসাবাদে জোবায়ের জানিয়েছেন, টাকার দরকার, তাই নিতাইগঞ্জের সবচেয়ে বড় বাড়িটিকে টার্গেট করেন গ্রেপ্তার জোবায়ের। পরিকল্পনামতো দুপুরে লোক সমাগম কম থাকবে তাই এ সময়কে বেছে নেন তিনি। দুপুর আড়াইটার দিকে একটি ছোট কালো ব্যাগের ভেতরে ৩টি ছুরি ও একাধিক গ্লাভস নিয়ে ডালপট্রি এলাকার ‘মাতৃসদন’ নামের ৬ তলা বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমে নিচ থেকে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজায় কলিং বেলে নক করেন। দরজা না খোলায় ধীরে ধীরে ৬ষ্ঠ তলার রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে নক করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানিয়েছেন, এ সময় রাম প্রসাদের স্ত্রী ফ্ল্যাটের বাসিন্দা রুমা চক্রবর্তী দরজা খুললে ভেতরে ঢুকে তার গলা চেপে ধরেন জোবায়ের। ছিনিয়ে নেন রুমার গলার চেইন। এরপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করেন। একপর্যায়ে রুমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু বলেন, এ সময় বটি নিয়ে পাশের রুমে অবস্থানরত রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর ছেলের বউ ফারজানা শীলাকে কোপাতে গেলে তিনি ধাক্কা দেন। এতে জোবায়ের ঘরের মেঝেতে থাকা রক্তে পা পিছলে পড়ে যান। তখন শীলা বঁটি নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। জোবায়েরও নিচে নেমে আসেন। শীলার হাতে বঁটি ও নিচে অনেক লোক দেখে জোবায়ের আবার ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে রক্তমাখা ছুরিসহ জোবায়েরকে আটক করে। এ সময় জোবায়েরের ব্যাগ থেকে দুটি সোনার চেইন ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে।