মিয়ানমার থেকে ‘বাকিতে আসা’ ৫০ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার ৫

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নৌপথে একাধিক বোটে মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা ও আইসের কারবার করে আসছিল সিন্ডিকেট।

ওই এলাকায় জেলের সংখ্যা বেশি থাকায় এসব নৌকা চিহ্নিত করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। সর্বশেষ পঞ্চাশ কোটি টাকা মূল্যের ১২ কেজি আইসসহ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকা থেকে মাদক কারবারি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (৩২), মকসুদ মিয়া (২৯), মো. রিয়াজ উদ্দিন (২৩), শাহিন আলম (২৮) ও শামসুল আলম (৩৫)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ কেজি আইস, ১ লাখ পিস ইয়াবা, দুটি বিদেশি পিস্তল, ৪ হাজার ৬২০ পিস চেতনানাশক সিডাকটিভ ইনজেকশন, ১ লাখ বার্মিজ মুদ্রা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আইস সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সোনাদিয়া দ্বীপ এলাকার একজন লবণ ব্যবসায়ী। লবণ ব্যবসার আড়ালে মিয়ানমার থেকে আইস এবং ইয়াবা চালান নিয়ে আসতেন। আইসের জন্য মিয়ানমারের কারবারিদের প্রথমে মোট অঙ্কের ২০ থেকে ৩০ ভাগ টাকা দিতে হতো। বাকি টাকা পরে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হতো।

গত পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে জসীমউদ্দীন ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত এক বছর ধরে আইস কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেছেন। এই চক্রের আরও ১২-১৫ জন সদস্য রয়েছে বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার শাহীন আলম জসিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। তিনি সাগর ও নৌপথে মাদক পরিবহনের মূল দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মানব পাচার ও মারামারি সংক্রান্ত ২টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার অপর সদস্য শামছুল আলমের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় অস্ত্র ও মারামারি সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার মকসুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি সংক্রান্ত ৬টি মামলা রয়েছে। শাহীন, সামসু ও মকসুদ মাদক বহন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন। গ্রেপ্তার রিয়াজ উদ্দিন মাদক পরিবহনে নজরদারির জন্য স্কর্ট বোটে অবস্থান করে স্কর্টিংয়ের দায়িত্ব পালন করতেন।

র‌্যাব জানায়, এই চক্র মূলত সোনাদিয়া কেন্দ্রিক একটি মাদক চোরাকারবারি চক্র। তারা নৌপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশে মিয়ানমার থেকে মাদক নিয়ে আসতেন। প্রথমত আইস নিয়ে এসে চক্রটি সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখতেন। পরে সোনাদিয়া থেকে দুটি বোটের মাধ্যমে নোয়াখালীর হাতিয়ায় চালান নিয়ে আসতেন। এভাবে মাদকের চালান হাতিয়ায় পৌঁছালে চক্রটির হাতিয়ার সদস্যদের তত্ত্বাবধানে মাদকের চালান সংরক্ষণ করা হতো।

পরে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় মেঘনা নদী হয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া/ঢাকার আশপাশে অথবা সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছানো হতো। ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, পটুয়াখালী ইত্যাদি অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করত চক্রটি বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব।

নৌপথে মাদক পরিবহনে তারা বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য চক্রটি ২টি বোট ব্যবহার করতেন তারা। সামনের বোটটিকে নজরদারি করতে এবং পরের বোটটিতে মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করতেন।

মোবাইল অথবা টর্চ লাইট সিগন্যালের মাধ্যমে উভয় বোটের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন।

পথে নজরদারিতে নিয়োজিত স্কর্ট বোট সন্দেহজনক কিছু আঁচ করতে পারলে পেছনের মাদকবাহী বোটকে সংকেত দিত পালিয়ে যেতে।

ওই চক্রের সদস্যরা আটকের পর এমন পরিকল্পিত মাদক কারবারের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।