প্রবাস থেকে স্ত্রী টাকা পাঠাতে দেরি করায় দুই সন্তানের ওপর নির্যাতন চালান বাবা আল আমিন (৩২)। মুন্না ও মুন্নী নামের শিশু দুটিকে ফাঁসি দেওয়ার হুমকিও দেন। সেই ঘটনার ধারণকৃত একাধিক ভিডিও ফুটেজ বুধবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
ঘটনাটি নরসিংদীর রায়পুরায় উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের শ্রীনিধি এলাকার। অভিযুক্ত আল আমিন ওই এলাকার মৃত সাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।
ভিডিওটি গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে শ্রীনিধি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে দুই শিশুসহ আল আমিনকে আটক করে। আটকের পর তাদের নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
জানা যায়, সাত বছর আগে একই ইউনিয়নের ধাইরেরপাড় এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে সাকিনা বেগমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন আল আমিন। এটি ছিল সাকিনার তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর আগের সংসারের ছেলে মুন্নাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন সাকিনা। পরে ওই দম্পতির মুন্নী নামে এক কন্যার জন্ম হয়। মুন্নার বয়স সাত ও মুন্নীর বয়স পাঁচ বছর।
ছয় মাস আগে স্বামী-সন্তান রেখে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে যান সাকিনা। এরপর থেকে শিশুরা আল আমিনের সঙ্গেই থাকছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আল আমিন নিয়মিত গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা মাদক সেবন করেন। মাদকের টাকা না পাঠালেই দুই শিশুকে মারধর করে সেই ভিডিও ধারণ করে পাঠাতেন স্ত্রীকে। একপর্যায়ে ভিডিওগুলো সাকিনা তার মামা মো. ফাহিমের কাছে পাঠায়। ফাহিম ফেসবুকে ভিডিওগুলো প্রকাশ করেন। পরে ভাইরাল ভিডিওটি গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসে।
মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে সাকিনা সাংবাদিকদের জানান, অভাবের তাড়নায় ও সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রবাসে এসেছি। প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে স্বামীর কাছে পাঠাই। এই মাসে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় সন্তানদের মারধর করেন তিনি। এ ঘটনায় আল আমিনের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল বলেন, শিশুদের মা প্রবাসে থাকেন। তিনি নাকি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন না। পরে টাকা আদায়ের জন্য ওই দুই শিশুর নির্যাতনের ভিডিও স্ত্রীকে পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখাতো আল আমিন। এটি খুবই নিন্দনীয় কাজ।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করি। পরে বাড়িতে গিয়ে তাদের না পেয়ে রেলস্টেশন এলাকা থেকে বাচ্চাসহ বাবাকে পাওয়া যায়। শিশু দুটির বাবা আল আমিন মাদকাসক্ত। সে স্ত্রীর সঙ্গে কলহ ও মাদকের টাকার জন্য বাচ্চাদের নির্যাতন করেছে। শিশু দুটিকে প্রভেশন অফিসারের মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর আল আমিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।