প্রকাশ্যে এলেন তালিবান নেতৃত্বের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দীন হাক্কানি। তালিবানের এ জ্যেষ্ঠ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসী’ তালিকার অন্যতম ব্যক্তি।
গত ১৫ আগস্ট তালিবানের হাতে কাবুলের পতন হয়। এরপর তারা নেতৃত্বে এলেও শনিবার প্রথমবার জনসম্মুখে হাজির হলেন সিরাজুদ্দীন।
ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, রাজধানী কাবুলে পুলিশের একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে ক্যামেরার সামনে খোলামেলা ভাষণ দেন তিনি।
সিরাজুদ্দীন হাক্কানি পুলিশ বাহিনীকে বলেন, ‘আপনাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং আফগান নেতৃত্ব আপনাদের কতটা মূল্যায়ন করে তা স্বীকার করতে, আপনাদের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর রহমতে আপনাদের দরবারে আজ প্রকাশ্যে হাজির হয়েছি।’
২০০৮ সালে কাবুলের একটি হোটেলে হামলায় আমেরিকান নাগরিকসহ ছয়জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন হাক্কানি। ওয়াশিংটন তাকে ধরতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়।
কূটনৈতিক সূত্র ও তালিবান কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আরটিএ-তে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘসহ চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কাজাখস্তান ও ইরানের রাষ্ট্রদূতেরা। তবে এখনো কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এ সময় তিনি আশ্বস্ত করেন, আফগানিস্তান কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না। আফগানিস্তানের জন্য বৈদেশিক সহায়তা স্থগিত করা এবং তালিবানকে বৈধ শাসক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনাও করেন তিনি।
সিরাজুদ্দীন হাক্কানি জোর দিয়ে বলেন, তালিবান কোনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি। বরং আফগান নারীদের আফগান সংস্কৃতি এবং ইসলামি শরিয়া আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ এবং শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
শনিবারের ওই অনুষ্ঠানের পর তালিবান কর্মকর্তারা হাক্কানির ছবি ও ভিডিও প্রচার শুরু করেছে। এর আগে পর্যন্ত বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠকের ছবিতে ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছুটা ঝাপসা করে দেখানো হচ্ছিল।