চেয়ারের জন্য নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছি: নিপুণ

জায়েদ খানের পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় চেম্বার আদালতে স্থগিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিপুণ আক্তার বলেছেন, চেয়ারের জন্য নয়, তিনি সত্যের জন্য লড়ছেন। আগামী চার সপ্তাহের জন্য জায়েদ খানের পক্ষে দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। সংবাদ সম্মেলনে নিপুণ বলেছেন, 'আশা করছি সত্যের জয় হবে। ভোট নিয়ে আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমি সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছি, চেয়ারের জন্য এই লড়াই নয়।’

গত বুধবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ বলে হাইকোর্ট রায় রোববার স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এর আগে হাইকোর্টের ওই রায়ের পর নিপুণ বলেছিলেন, তিনি ন্যায় বিচার পাননি। তখন তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায় বিচার পাইনি। আমি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। এর আগের দিন বুধবার জায়েদ খানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী ঘোষণা করে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, রায়ে সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।

গত ২৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন হয়। প্রাথমিক ফলাফলে সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জায়েদ খানকে। পরে জায়েদের বিরুদ্ধে ‘টাকা দিয়ে ভোট কেনা’সহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ। এমনকি এ পদে পুনরায় ভোটের দাবিও তোলেন। নিপুণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জায়েদ খানের পদ বা প্রার্থিতা বাতিল হবে কি না- সে বিষয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে এফডিসিতে বসেন শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড। এরপর বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন। এরপরই আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেন জায়েদ খান। গত ৭ ফেব্রুয়ারি আপিল বোর্ডে প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। রিটের শুনানি নিয়ে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত ওই দিনই স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের সেই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন করেন নিপুণ। ৯ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানি শেষে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদের ওপর ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করা হয়। এ সময়ের মধ্যে জায়েদ-নিপুণ কেউ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবেন না বলে জানানো হয়। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ এবং স্থিতাবস্থা বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।