ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রাম ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছিল সেখান থেকে উঠে আসা নারী ফুটবলারদের কারণে। এবার সেই নারী ফুটবলারদের গল্প উঠে এলো দেশের পাঠ্য বইয়ে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল মানেই যেন কলসিন্দুর। জাতীয় দলের সিংহভাগ খেলোয়াড় এই গ্রামের। যাদের পায়ের জাদুতে দেশের নারী ফুটবলে ফিরেছে আলোর রেখা। দেশের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে এই এলাকার অদম্য কিশোরীরা।
সেই অদম্য কিশোরীদের গল্প উচ্চ মাধ্যমিক শাখার একাদশ শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দ্য আনবিটেন গার্লস (অপরাজিত মেয়েরা) শিরোনামে পাঠ্য বইয়ে একটি বিশেষ পাঠ রাখা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের একাদশের ইংরেজি বইয়ে উঠে এসেছে সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্দা, তহুরা খাতুনদের জীবনযুদ্ধ ও সাফল্যের কথা।
কলসিন্দুরের মেয়েদের গল্প পাঠ্য বইয়ে লিপিবদ্ধ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসে কলসিন্দুরের অদম্য মেয়েরা।
সানজিদা আক্তার তার অফিশিয়াল ফেইসবুক পেজে লিখেছেন, ‘কলসিন্দুরের এলাকার মেয়ে হিসেবে আমি গর্ব অনুভব করছি।
গত ডিসেম্বরে অনুর্ধ্ব-১৯ নারী সাফজয়ী দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা লিখেছেন, ‘আমি অনেক কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
কলসিন্দুরের মেয়ে তহুরা খাতুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে আমাদের পাঠ্য বইয়ে তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কলসিন্দুরের মেয়ে হিসেবে আমি গর্ব বোধ করি। আমাদের এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুলের শিক্ষক, ফুটবল প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
এদিকে, মারিয়া-তহুরাদের গল্প পাঠ্য বইয়ে লিপিবদ্ধ হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে রবিবার দুপুরে কলসিন্দুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস এবং জেলা প্রশাসক এনামুল হক।
কলসিন্দুরের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে কলসিন্দুরের মেয়েদের খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন বিভাগীয় কমিশনার।