জমি নিয়ে ভাতিজার ওপর চাচার হামলাকে রাজনৈতিক বলে প্রচার বিএনপির

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে চাচার নেতৃত্বে হামলা হয় ভাতিজার ওপর। তবে এ হামলাকে রাজনৈতিক বলে প্রচার চালায় বিএনপি। এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সালটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকালে গফরগাঁও প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক ঢালী, আব্দুল্লাহ আল আমিন বিপ্লব, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব উদ্দিন টিটু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, যুবলীগের আহ্বায়ক এম এ জলিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল হাদী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সালটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব উদ্দিন টিটু বলেন, গত ১ মার্চ উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের ছিদ্দিক মোল্লার ছেলে মো. মোশারফ মোল্লাকে (২৬) জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার চাচা আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা (২৮) ও মো. হান্নান মোল্লা (১৮) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পায়ে, হাতে ও মাথায় আঘাত করে। এতে মোশারফ গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীনে। এসব অভিযোগ উল্লেখ করে ঘটনার পরদিন মোশারফ মোল্লার মা জোছনা বেগম বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।

আফতাব উদ্দিন টিটু অভিযোগ করে বলেন, জমি নিয়ে চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্বকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে যুবলীগকে জড়িয়ে বিএনপির নেতৃত্বের একাংশ মিথ্যা প্রচারণা করে। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে অংশগ্রহণের কারণে যুবলীগের কর্মী কাইয়ুম মোল্লা ও হান্নান মোশারফকে পিটিয়ে আহত করে বলে প্রচার চালায়। বিএনপি যে দুজনকে অভিযুক্ত করেছে তারা তাদের কর্মী।

আফতাব উদ্দিন টিটু আরো বলেন, আহত মোশারফ মোল্লাকে দেখতে বুধবার বিকেলে পিজি হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা.মোফাখখারুল ইসলাম রানা।

ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হক ঢালী বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে চাচা-ভাতিজার মধ্যে সংগঠিত মারপিটের ঘটনাকে রাজনৈতিক বলে চালিয়ে দিয়ে বিএনপি অত্যন্ত হীন পরিচয় দিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বাদী-বিবাদী উভয়ের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপির কর্মী হিসেবে।

বাদীর অভিযোগে দেখা যায়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোশারফ জখম হন বলে এতে উল্লেখ আছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির নেতা মুশফিকুর রহমান বলেন, যুবদল নেতা মোশারফ, তার চাচা কাইয়ূম ও আব্দুল হান্নান আমাদের সক্রিয় কর্মী। আমার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপির বিক্ষোভ অংশ নেয়। মোশারফ সামনের সারি থেকে মিছিলে অংশ নেয়। তাকে মারধরের ঘটনাটি পারিবারিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেবকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন এ হামলার বিষয়ে ভুল বুঝিয়েছেন।