সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ১৩টি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সভায় দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ভার্চুয়াল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিকবিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
দীর্ঘমেয়াদে তেমন কোনো সুবিধা না থাকায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কয়লা বা বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নৌ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কয়লা/বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি’ পিপিপি তালিকা থেকে বাতিলসহ দুটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পায়রা বন্দরে একটি কয়লা/বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রস্তাব ছিল সেটা কেন প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ প্রস্তাবটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রথমে আমরা যে ধরনের বিশ্বাস নিয়ে প্রস্তাবটি পাস করিয়েছিলাম পরবর্তী সময়ে দেখা গেল এখানে চাহিদা ও ডিমান্ডের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এখন এ ধরনের প্রকল্প নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওল্ডবেজড পাওয়ারপ্ল্যান্ট এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। ফলে এটা যেভাবে আসছিল সেভাবেই রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদের সুবিধা নেওয়া যাবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হয়েছে এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে আরও অর্থবছর পড়ে থাকবে। সেজন্য এখান থেকে সরে এসেছি। আমরা অন্যভাবে অন্য জায়গায় যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হয় যেখান থেকে বেশি লাভবান হতে পারি। সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এখান থেকে বাদ দিয়েছি।
এছাড়া সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক ৬০টি বহুমুখী অ্যাকসেসযোগ্য রেসকিউ বোট বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’-এর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এরপর সরকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য (টেবিলে চারটি উপস্থাপনসহ) ১৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চারটি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের তিনটি, নৌ মন্ত্রণালয়ের তিনটি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১৩টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৮১৬ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৫ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৮৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ ১ হাজার ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৮২ হাজার ৭৯২ টাকা।