দর্শকের রুচির বদল নেই বলেই ভারতীয় সিরিয়ালের অধোগতি বলে মনে করেন কণীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সাংবাদিক সম্মেলনে জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর দাবি, ‘দর্শক আগে তাদের রুচি বদলান। তা হলে আমরাও ধারাবাহিকের গল্প বদলাব। ভালো বিষয় দেখালে টিআরপি পড়ে যায়। ধারাবাহিক বন্ধ মানেই অভিনেতা, কলা-কুশলীদের উপার্জনও বন্ধ।’
কিছুদিন ধরেই কণীনিকা অভিনীত ‘আয় তবে সহচরী’র গল্প নিয়েও চর্চা চলছে ফেসবুকে, সংবাদমাধ্যমে। ধারাবাহিকের শুরুতে এক মাঝবয়সী নারীর উচ্চশিক্ষা, উত্তরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প দেখা যায়। আচমকাই সেখানে পরকীয়া, দ্বিতীয় নারী, তথাকথিত শাশুড়ি-বউমার কূটকচালির প্রবেশ। প্রতিবাদে ধারাবাহিক পরিচালনা ছেড়ে দিয়েছেন প্রথম পরিচালক।
তার দাবি, গল্প আগের জায়গায় ফিরিয়ে না নিয়ে গেলে তিনি আর পরিচালনা করবেন না। নারী দিবসের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই অভিনেত্রীকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। তখনই তিনি বলেন এ কথা।
সিরিয়ালের ভোল বদল নিয়ে কণীনিকা পরে বলেন, ‘‘এটা বোঝার পরে আমি একা নই, টিম ‘সহচরী’ হতবাক। অসমবয়সী বন্ধুত্ব, সংসার সামলে এক নারীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন এসব নিয়েই চিত্রনাট্য লেখা হয়েছিল ধারাবাহিকের। আমিও তাই রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু অভিনয় করতে করতে দেখলাম, লেখাপড়ার গল্প কোনো দর্শক দেখতেই চান না! রেটিং চার্টে ধারাবাহিকের নম্বর তখন ৫-৬-এর আশপাশে ঘুরছে।’’ কণীনিকার দাবি, যেই পরকীয়ার গল্প যুক্ত হলো ওমনি নম্বর ৯-এর ঘরে!
দর্শকদের এই রুচি তৈরি করেছেন কারা? জবাবে কণীনিকার দাবি, প্রত্যেকের শিক্ষা, বাড়ির পরিবেশ প্রত্যেকের রুচিবোধ গড়ে দেয়। সেই অনুযায়ী কেউ দেখেন নেটফ্লিক্স। কেউ পড়েন পত্রিকা বা ক্রোড়পত্র। আবার কোনো নারী দেখতে ভালোবাসে ধারাবাহিকে অন্য নারীর ওপরে ঘটতে থাকা অত্যাচার, তার চোখের জল।
আরও বলেন, ‘‘অন্দরমহল’ ধারাবাহিকের সময় লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখেছি, ‘সহচরী’র সময় সাহানা দত্তকে দেখছি, ওরা ভালো কিছু দিতে চাইলেও দর্শক দেখতে চায় না। ওরাও নিরুপায়। যত দিন না দর্শকের রুচি বদলাবে, তত দিন ধারাবাহিকে পরকীয়া, এক পুরুষের ১০টা বিয়ে থাকবেই।’’