গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১১ জেব্রা ও এক বাঘ, এক সিংহীর মৃত্যুর দুই মাসের বেশি সময় পর পার্কের সাবেক কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
পার্কের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীপুর মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া।
মামলার আসামি শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান যশোরের কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের করিম বক্সের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে মোট ১১ টি জেব্রার মৃত্যু হয়। এছাড়া, একই সময়ের মধ্যে একটি বাঘ ও একটি সিংহী মারা যায়। ঘটনাটি যথাসময়ে কর্তৃপক্ষকে জানাননি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান। এমনকি তিনি জরুরি চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড মিটিং বা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডিও করেননি। মৃত ১১ টি জেব্রার মধ্যে তিনটির পেটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর কারণ হিসেবে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমানের বক্তব্য তদন্ত কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, মামলায় একজনই আসামি- পার্কটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান। মামলাতে বলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্ট, প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতা আর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এ মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, অনেক কর্মকর্তার মাঝে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমানের আমলে পার্কে সবচেয়ে বেশি প্রাণীর জন্ম হয়েছে। বেশ কিছু বাগান করা হয়েছে যা ভবিষ্যতে পার্কের আরও সমৃদ্ধি আনবে সৌন্দর্য বর্ধনে। তবে আকস্মিক বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যুতে তার ভাগ্য খারাপ হয়ে পেড়েছে।
প্রসঙ্গত, সাফারি পার্কে প্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একদফা সময় বাড়িয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিবেদন পর্যালোচনা বিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সাফারি পার্কে চলতি বছরের ২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১২ জানুয়ারি টাইগার বেষ্টনীতে ১০টি বাঘের মধ্যে একটির মৃত্যুর হয়। অপরদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রোগাক্রান্ত হয়ে একটি সিংহীর মৃত্যু হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জিরাফ, জেব্রা সহ বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদনে একটি জেব্রার শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রাণী মৃত্যুর লাগাতার এসব ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। এ ঘটনায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে সাফারি পার্কের চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।