যুবলীগ নেতার কবজি কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক যুবলীগ নেতার হাতের কবজি কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রোকনপুর ইউনিয়নের বড় শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হযরত আলী ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় গ্রামের স্কুলমাঠে বসে ছিলেন হযরত আলী। এ সময় বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে হযরত আলী স্কুলমাঠের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেও তার ওপর হামলা চালায় তারা। হযরতকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে জামির, জহির ও জাকির নামে তিনজনকেও কুপিয়ে জখম করে তারা। হামলাকারীরা হযরতের ডান হাতের কবজি কেটে ফেলে ও দুই পায়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে গতকাল শুক্রবার হযরত আলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান সেখানকার চিকিৎসকরা।  

আহত জামির হোসেন জানান, হযরত আলীকে রক্ষা করতে গিয়ে তারাও হামলার শিকার হয়েছেন। শিমলা রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির চৌধুরীর ভাষ্য, গত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। যারা হামলা করেছে তারা সবাই পরাজিত মেম্বর প্রার্থীর সমর্থক ছিল। আর হযরত আলী ছিলেন বিজয়ী মেম্বার প্রার্থীর সমর্থক।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আজগর আলী জানান, হযরত আলীর অবস্থা গুরুত্বর। তার ডান হাতের কবজি কেটে পড়ে গেছে।

এদিকে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মতলেবুর রহমান বলেন, একজনের হাতের কবজি কেটে ফেলার কথা শুনেছি। হামলার ঘটনা শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।