গরু চোর ধরতে পারলেই লাখ টাকা পুরস্কার!

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি কৃষকদের খামার থেকে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে কৃষকেরা গরু লালনপালন শুরু করেছে।

তবে সবাই গরু মহিষ নিয়ে রয়েছে চরম দুশ্চিন্তায়। এমনি পরিস্থিতিতে খামারিদের সতর্ক থেকে গরু পালনে উৎসাহিত করতে গরু চোর ধরতে পারলেই লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে এক ইউপি চেয়ারম্যান।

এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চেয়ারম্যানের এমন সাহসী পদক্ষেপে অনেকে বাহবা দিচ্ছেন। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাদবর শনিবার এক মিটিং শেষে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

গরু ধরতে পারলেই নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে চোর আটকের পর অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তান্তর করতে হবে বলেও প্রচারে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা জানান, সম্প্রতি এ ইউনিয়নের বেশ কিছু কৃষকের খামার থেকে গরু চুরি হয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরের দল আসন্ন ঈদে পালন করা গরু টার্গেট করে বিভিন্ন সময় হানা দিয়ে গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামের অনেক সাধারণ কৃষক দুই চারটা গরু পালন করে সংসারে আয় উন্নতির ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়াতে পালিত গবাদিপশু নিয়ে তারা ভয়ে শঙ্কায় রয়েছে। 

শুধু এসব এলাকায় নয় উপজেলার অন্য সব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কোনো না কোনো রাতেই গরু চুরি হচ্ছে। 

কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাদবর এমন ঘোষণা দিয়েছেন।

কৃষকেরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে অনেক প্রান্তিক খামারি ছোট আকারে গরু লালন পালন করে বাড়তি আয়ের জন্য। এর মধ্যে গরু হৃষ্টপুষ্ট করার কাজ শুরু করেছে গ্রামের ছোট ছোট খামারি। চেয়ারম্যানের এমন উদ্যোগে খামারিরা আরো সচেতন হবে সতর্ক থাকবে। এতে গরু চুরির সুযোগ কমে আসবে বলেও তারা আশা ব্যক্ত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকজন মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী বলেন, গত এক বছরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ গরু চুরি হয়েছে। এতে অনেক প্রান্তিক কৃষক পথে বসে গেছে। ছোট্ট সম্বল দিয়ে ৩/৪ টা গরু পালন করে বাড়তি আয়ের জন্য। কিন্তু চুরির কারণে ভয়ে থাকে। সম্প্রতি গরুর দাম খুব চড়া বলেই চুরি বেড়ে গেছে। পুলিশ ও খামারিরা চেষ্টা করছে তবুও অভিনব কায়দায় গরু চুরি হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, পুলিশ টহল আরও বাড়াতে হবে ও রাতে কোনো কাভার্ডভ্যান বা ট্রাক সন্দেহ হলেই আটক করে পুলিশে খবর দিতে হবে। অনেক সময় কাভার্ডভ্যানের ভেতরে গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। অন্য সব এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও এমন উদ্যোগ নিতে পারে এতে খামারি বা কৃষকেরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে তাদের পালিত গবাদিপশু নিয়ে।

এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল হক মাদবর জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি বেড়ে গেছে। আর আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে অনেক ছোট ছোট খামারি গরু লালন পালন শুরু করেছে। তবে সবাই ভয়ে ভয়ে থাকে কখন পালিত পশু চুরি করে সংঘবদ্ধ চোরের দল। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, যে গরু চোর ধরে দিতে পারবে, তাকে আমার নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যদের নিয়ে মিটিং করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের এ সিদ্ধান্তের  বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা ও অন্যান্য দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে গরু পালনে উৎসাহিত করতে ও তাদের খামারের দিকে সচেতনতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন একটি উদ্যোগ স্থানীয় চেয়ারম্যান নিয়েছেন। আমাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে সামনের ঈদের জন্য সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। চুরি রোধ করতে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে হবে। পুলিশ সব সময় টহলরত থাকবে। অন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে, সবাইকে নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই সহজে গরু চুরি রোধ করা যাবে। কৃষকেরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারবে।