আমাদের এই ভূখণ্ডে প্রথম বিজলি বাতি জ্বলেছিল ১৯০১ সালে, ঢাকার আহসান মঞ্জিলে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানা কাজের কাজী এই বিদ্যুতের চাহিদা এদেশেও বাড়তে থাকে। কিন্তু বিনিয়োগে দেখা দেয় দৈন্যদশা। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পেছনে পড়ে থাকে। এতে বিদ্যুৎ লাইনে সংযুক্ত মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে; অফিস আদালতে কাজকর্ম এবং কলকারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, অনেক জায়গায় লোকজন হাসাহাসি করে বলত, তাদের এলাকায় এই বস্তুটি হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তারদের রোগী দেখতে সকালে বিকেলে রাউন্ড দেওয়ার মতো ত্বরিত গতিতে আসা-যাওয়া করে; কিন্তু অবস্থানের অবকাশ পায় না। তখন সরকার অবশ্য জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় দ্রুতগতিতে ও নির্বিঘ্নে তড়িৎ উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রতিষ্ঠিত হয়; প্রণীত হয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মহাপরিকল্পনা-২০১০। এটা পরবর্তী সময়ে পুনঃপরিদর্শিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মহাপরিকল্পনা-২০১৬ (RPSMP) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাতে উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি হয়, মানুষের ভোগান্তি কমে, কিন্তু ব্যয় বাড়তে থাকে। এখন বিদ্যুৎ বিভাগের সামনে এক কঠিন সন্ধিক্ষণ উপস্থিত: এক দিকে অর্থ সংকট এবং অন্য দিকে উদ্বৃত্ত উৎপাদন ক্ষমতা।
এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পৌঁছে গেছে ২৬,০০০ মেগাওয়াটে, যদিও এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪,০০০ মেগাওয়াট। এটা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক চিত্র। যে দেশে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এক কঠিন সমস্যা, সেখানে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম এক বিরল ঘটনা বটে। তবে অতি ভালো যে ভালো নয়, তা বুঝলাম কয়েকদিন আগে (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২) বণিক বার্তায় একটি প্রতিবেদন পড়ে। সেখানে বলা হয়েছে যে, বেশি দামে কিনে কম দামে বেচে বড় অংকের লোকসান গুনছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ ঘাটতি মেটাতে ভর্তুকি চাইলেও অর্থ বিভাগ তা দিচ্ছে না; তারা দিচ্ছে সুদসমেত পরিশোধযোগ্য ঋণ। ফলে পাহাড়সম ঋণের ভারে এখন ন্যুব্জ এই প্রতিষ্ঠানটি। আবার এই ঋণের কারণে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সংস্থাটি চুক্তিও করতে পারছে না কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। সেখানে আরও বলা হয়েছে যে, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্ল্যান্ট থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় এবং চাহিদা না বাড়ায় অনেক কেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, আবার সংস্থাটি উৎপাদনে যতটা আগ্রহী, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে তাদের সেরকম গরজ দেখা যায় না; তাদের কাজকর্মে আমদানি ও ঋণনির্ভরতা বেশি লক্ষণীয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সরকারের নীতি ও অভিলক্ষ্যকে সামনে রেখে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, ইতিমধ্যে তা সংশোধন করেছে এবং তার ভিত্তিতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে। আবার জনস্বার্থ রক্ষার্থে বিতরণ ব্যবস্থাকে দক্ষ, স্বচ্ছ ও ভোক্তাবান্ধব করার লক্ষ্যে একক ভাবে তা কিনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারণ করা মূল্যে বিক্রি করছে। বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে এই লোকসানের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এখানে তার দোষটা কোথায়? এটা তো সরকারের নীতি; সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তো তার কোনো সংস্থা অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু অর্থ বিভাগ মাঝে মধ্যে তা করে।
মনে পড়ে ২০১১ সালে চালের দাম যখন দ্রুত গতিতে বেড়ে যাচ্ছিল, তখন চাল আমদানির জন্য বাজেটে যথেষ্ট অর্থসংস্থান ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত করে চাল আমদানি করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেট বরাদ্দ পরবর্তী সময়ে পাওয়া যাবে এই প্রত্যাশায় বেশ কয়েকটি চাল আমদানির দরপত্র অবমুক্ত করা হয়। এই সব দরপত্রের বাজেট বরাদ্দের জন্য যখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেনদরবার শুরু হলো, তখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কঠিন ভাষায় খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিশেষ করে দরপত্র আহ্বানকারী খাদ্য অধিদপ্তরকে নসিহত করা শুরু হলো; বলা হলো যে, কাজ করতে করতে কেশ ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের আক্কেল হয়নি। বিধি অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ব্যতিরেকে দরপত্র আহ্বান করা যায় না। আত্মপক্ষ সমর্থনে অনুচ্চ স্বরে আমরা শুধু জানিয়েছিলাম যে, এজন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো বরাদ্দ বা উত্তর কোনোটাই পাওয়া যায়নি। এখনই বিধি রক্ষার্থে দরপত্র বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে চলে যাচ্ছি। তবে আজ বরাদ্দ পেলে তার ভিত্তিতে জারি করা দরপত্রের চাল যখন দেশে পৌঁছাবে, তখন আর সেটা উদ্দেশ্য পূরণ না করে বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। অনুগ্রহ করে আক্কেলহীন ও বিধি-বোদ্ধাদের কথাগুলো শুধু কার্যবিবরণীতে পাশাপাশি উল্লেখ করবেন। এরপর বিনা বাক্যব্যয়ে বরাদ্দ চলে আসে।
বিদ্যুৎ বিভাগও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভালো ফল পেতে পারে। তবে তার আগে তাদের যে সব ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং যতটা সম্ভব সেগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমেই আসে স্ফীত সিস্টেম লসের প্রসঙ্গ। এটা কোনো বিধি আর নীতির ফল নয়; এটা সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দক্ষতার উপজাত; এর দায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এখন বলা হচ্ছে যে, ২০০৯ সালে যেখানে সিস্টেম লস ছিল ১৪.৩৩ শতাংশ, এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৮ শতাংশে। এটা নিট, না স্থূল তাও ব্যাখ্যার দাবি রাখে। সিস্টেম লস কমাতে যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যয় সমন্বয়ের পর যে নিট অর্জন পাওয়া যাবে, সেটা মানসম্পন্ন কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন।
উৎপাদন-প্রকল্প গ্রহণ, বিদ্যুৎ ক্রয়, আমদানিকরণ, বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ, বিপণন প্রভৃতি কাজে বিদ্যুৎ বিভাগ স্বাধীন নয়, অন্যের ওপর নির্ভরশীল বা অন্যের নিয়ন্ত্রণাধীন। এর ফলে যে লোকসান হচ্ছে, তার দায় পিডিবির একার নয়, সংশ্লিষ্ট সবার। এটাকে অবশ্যই ভর্তুকি হিসেবে গণ্য করতে হবে। তবে বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে পিডিবির দায়িত্ব এসব কার্যক্রমের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিশ্লেষণ করে নিয়মিত ভাবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আবার মূল সংস্থা হিসেবে পিডিবিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি, বিতরণ, মূল্য নির্ধারণ প্রভৃতি কাজে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু এই কাজগুলো সংস্থাটি কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারছে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ওয়েব সাইটে Simon Nicholas and Sara Jane Ahmed, Institute of Energy Economics and Analysis Gi Bangladesh Power Revie শিরোনামের একটি প্রতিবেদন থেকে দেখলাম যে, পরিকল্পনা মাফিক ২০৩০ সাল নাগাদ দেশ যে পরিমাণ (২৮১ টেরা-ওয়াট-আওয়ার, ঞডয) বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে, তা হবে প্রয়োজনের (১৭৭ টেরা-ওয়াট-আওয়ার) তুলনায় ১০৪ টেরা-ওয়াট-আওয়ার, অর্থাৎ ৫৮ শতাংশ বেশি। এই তথ্য কতটুকু সত্যাসত্য, তা বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন। তবে খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৩,৭৯২ মেগা ওয়াট; অর্থাৎ মোট ক্যাপাসিটির (২৬,০০০ মেগাওয়াট) ৫৩ শতাংশ মাত্র। রিজার্ভ মার্জিনের জন্য আর কতটুকুই বা প্রয়োজন? ইতিমধ্যে কয়লাচালিত পায়রা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের এক ইউনিট উৎপাদনে গিয়েছে, কিন্তু সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন না হওয়ায় সেটাকে বসিয়ে রেখে মাসে ১৬০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। আরও বেশ কিছু কয়লাচালিত প্ল্যান্ট কমিশনের অপেক্ষায় রয়েছে। সিপিডির হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে ৮,৯২৯ কোটি টাকা, কিন্তু ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশ ক্যাপাসিটি সুবিধা। এসব বিবেচনায় স্বাভাবিক ভাবে ধারণা জন্মে যে, আগামীতে প্রয়োজনাতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতার জন্য পরিশোধযোগ্য কাপাসিটি চার্জ অর্থনীতিতে অনভিপ্রেত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এটা ঠিক যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিভিন্ন দৃশ্যপটের অনুকূলে যে সব প্রাক্কলন তৈরি করা হয়, সেগুলো সব সময় লক্ষ্যের সঙ্গে হুবহু মেলে না। পরিস্থিতি পাল্টে গেলে সেগুলোর উপযোগিতা এবং প্রাসঙ্গিকতা আরও পরিবর্তিত হয়। দেশের জন্য যে বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, তখন ৯ থেকে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে তা করা হয়েছে। সেখানে গ্যাস ও জ্বালানি তেল আমদানি, দেশে ক্রমহ্রাসমান মজুদের কথা বিবেচনায় গ্যাস চাহিদার ৭০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ এবং তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ আমদানি ও বিদেশে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে বিনিয়োগ প্রভৃতি কাজ যতটা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মল নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গ ততটা গুরুত্ব পায়নি। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তব পরিস্থিতি থেকে এর প্রমাণ মেলে; ২০২০ সাল নাগাদ এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ, কিন্তু এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ৬৫০.৫৩ মেগাওয়াট; এর মধ্যে আবার পানি বিদ্যুতের পরিমাণ ২৩০ মেগাওয়াট।
ইতিমধ্যে কভিড এসে অনেক কিছুই ওলটপালট করে দিয়েছে। এখন আবার এসে গেছে ইউক্রেন যুদ্ধ। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামে চলছে উল্লম্ফন। জ্বালানি নিরাপত্তা ক্রমে হয়ে পড়ছে আক্রা ও ভঙ্গুর। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার অবশ্য মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি কয়লা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট সবুজ পরিবেশ ও আর্থিক সাশ্রয় বিবেচনায় ইতিমধ্যে বাতিল করেছে। এখনো দেশীয় সম্পদভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য নির্মল জ্বালানির ক্ষেত্র সম্প্রসারণে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সময়ের চাহিদা অনুযায়ী উন্নতি ও উৎকর্ষের জন্য পরিবর্তনের উপযোগিতা অনস্বীকার্য। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রসঙ্গে চার্চিলের একটি উক্তি স্মরণযোগ্য: “ÒTo improve is to change; to be perfect is to change often.” পারফেক্ট বা নির্ভুল হওয়া হয়তো সম্ভব নয়, সেটার দরকারও নেই; ওটার কাছাকাছি যাওয়ার প্রচেষ্টা থাকলেই যথেষ্ট। আমরা আশা করি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পিডিবি আমদানির পরিবর্তে দেশীয় সম্পদের উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুতের জন্য প্রণীত মহাপরিকল্পনায় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনায় উদ্যোগী হবে আর অর্থ মন্ত্রণালয়ও সরকারি নীতির সমর্থনে পিডিবিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দান করবে।
লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কলামনিস্ট
rulhanpasha@gmail.com