নিউজিল্যান্ডের ওই পারফরম্যান্সের পর পেসার হিসেবে কী কী পরিবর্তন এসেছে? বিপিএলে খুব উজ্জীবিত ছিলেন এটা কি নিউজিল্যান্ডে ভালো করার ফল?
এবাদত হোসেন : ঠিক পরিবর্তন না, যদি পরিশ্রম করি ঠিক পথে, তার ফল ভালোভাবে আসে। আমি দু’বছর ধরে ওটিস গিবসনর সঙ্গে কাজ করেছি। তার ফল পেয়েছি। হ্যাঁ সত্যি, নিউজিল্যান্ডের ওই পারফরম্যান্সের পর নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে। নতুন বলে সঠিক জায়গায় বল করতে পারছি, গুডলেন্থে খুব জোরে বল ফেলতে পারছি। পেসটাও ভালো আছে।
নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকা পরপর দুটি সিরিজ পেস সহায়ক জায়গায়। এমন সময় ফর্ম-মোমেন্টামও আছে। নিজেকে লাকি মনে করেন?
এবাদত : বিশ্বের কোনো উইকেটই এখন আর সহজ না, আবার কঠিনও না। টেস্টের পুরো ব্যাপারটাই ধৈর্য। এক জায়গায় সারা দিন বল করতে পারলে সফলতা আসবেই। এমনিতে এশিয়ার চেয়ে ওই দেশগুলোর উইকেট একটু পেস সহায়ক থাকে। আমার চেষ্টা থাকবে নিউজিল্যান্ডে যেমন করলাম। ওই রকমটা যেন দক্ষিণ আফ্রিকাতেও করতে পারি।
বিপিএলে মাশরাফীর কাছে বারবার দেখা গেছে আপনাকে। কী অভিজ্ঞতা নিলেন?
এবাদত : মাশরাফী ভাই এক জায়গায় সারা দিন বল করতে পারেন। ওনার ভ্যারিয়েশন খুব ভালো। আমি ওই জিনিসটা শিখতে চেয়েছিলাম। ইয়র্কার মারতে কী টার্গেট করেন, সেøায়ার দিতে কী করেন, কোন ডেলিভারিতে কেমন গ্রিপ (বলের) করেন, ফিল্ড সেটটা কেমন থাকে এগুলো দেখছিলাম।
কোর্টনি ওয়ালশ, ওটিস গিবসনের পর এবার আরেক কিংবদন্তি অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গে কাজ করবেন। নিজে কতটা প্রস্তুত?
এবাদত : অবশ্যই রোমাঞ্চিত। উনাকে কখনো দেখিনি। এবার প্রথম দেখা হবে। সেই প্রথম থেকেই দেখেন, আমরা মাস্টার বলে ডাকতাম কোর্টনি ওয়ালশকে। এরপর গিবসন, এখন ডোনাল্ড। সবাই বড় মাপের কোচ ও খেলোয়াড়ও। ওনাদের সান্নিধ্য পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপারও। গত দুই বছরে ওটিসের সঙ্গে কাজ করে যা শিখেছি। আমি এই শিক্ষাটা-চেষ্টা ওপরের দিকে নিতে চাই। ডোনাল্ডের সঙ্গে আমি সবকিছু শেয়ার করব। এরপর উনি যেভাবে চান সেভাবে এগোতে চাই। আমি চেষ্টা করি কোচের কাছ থেকে আদায় করে নিতে। যেমন ওটিসের কাছে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম– ধারাবাহিকতাটা আনতে আমি কেন পারছি না। উনি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। পরে বলেছেন এটা করে দেখাতে হবে, চেষ্টা করলেই হবে না, করে দেখাতে হবে। ওটিসের কাছে এই একটা বিষয় আমি খুব ভালো ভাবে শিখেছি– চেষ্টাটা বাদ দিতে হবে, করে দেখাব। তো এটাই বলব যে, আমার শেখার আগ্রহ বেশি। ডোনাল্ডের কাছ থেকেও শিখব।
ডোনাল্ডের কাছ থেকে শেখার জন্য কোনো কিছু ঠিক করেছেন কি না?
এবাদত : আমি পরিকল্পনা রেখেছি। কিন্তু দেখতে হবে উনি কী চাচ্ছেন। আমি আমারটা আগেই বলে দিলে হবে না। কোচের ইচ্ছা অনুযায়ী আমি কাজ করব। উনি কোন বিষয়টা আমাকে দিতে চাচ্ছেন। সেটা দেখব।
ব্যাটিং নিয়ে খুব কাজ করছেন। কতটুকু আগালেন। সিডন্সও তো আপনাকে সময় দিচ্ছে?
এবাদত : হ্যাঁ, নিজের কাছে খারাপ লাগত যে অন্যরা রান করছে কিন্তু আমি পারছি না কেন। সেই তাগিদ থেকে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, অনেকটা এগিয়েছি। জেমির সঙ্গে কাজ করে প্রথম টেস্টটা পাস করেছি। টেস্টটা ছিল কাট ও পুল শটের বেসিক শেখা। সেটা হয়েছে। উনি বলেছেন, বল সোজা এলে ব্যাট সোজা রাখতে পারব। কিন্তু বল বাউন্স বা স্ট্যাম্পের বাইরে এলে কী করব? তখন তো রান করতে হবে। তো চেষ্টা করছি, দেখা যাক।
২০১৯-এ আপনি আউট করার পর বিরাট কোহলি আর সেঞ্চুরি করতে পারছে না। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব ট্রল হয়। বিষয়টা আপনি কীভাবে নেন?
এবাদত : হা হা হা। এটা কিছুই না। এখানে আমার কী করার আছে (হাসি)। হয়তো উনার সময়টা খারাপ যাচ্ছে। আমি মাঝেমাঝে চিন্তা করি তার কথা। তবে ওই সিরিজে ভারতে যাওয়ার আগে আমি নামাজ পরে দোয়া করেছিলাম যেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির উইকেট পাই। আলহামদুলিল্লাহ হয়েছিল। তো এটা অনেক বড় ভালোলাগা।