১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক রাজশেখর বসু। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, অনুবাদক, রসায়নবিদ ও অভিধানপ্রণেতা। রঙ্গকৌতুক ও বিদ্রুপাত্মক লেখার জন্য তিনি প্রসিদ্ধ। পরশুরাম ছদ্মনামে লিখতেন তিনি। ১৯০০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রসায়নে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ পাস করেন। কর্মজীবন শুরু করেন ওকালতি দিয়ে। কিন্তু বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অল্প কিছুদিন পরই বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস কোম্পানিতে যুক্ত হন। হয়ে ওঠেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রিয় পাত্র। রাজশেখর বসু নিজস্ব দক্ষতা ও যোগ্যতাবলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেখানকার পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। কেমিস্ট্রি ও ফিজিওলজির মধ্যে তিনি আশ্চর্য যোগসূত্র স্থাপন করে এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। গল্পের বাইরে তিনি বাল্মীকির রামায়ণ, কালিদাসের মেঘদূত, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকৃত মহাভারত ও শ্রীমদ্ভগবত গীতা সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। ধ্রুপদী সাহিত্যের এই অনুবাদগুলো রাজশেখর বসুকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৩৭ সালে রাজশেখর বসুর বিখ্যাত বাংলা অভিধান গ্রন্থ ‘চলন্তিকা’ প্রকাশিত হয়। সাহিত্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন। ভারত সরকার তাকে ১৯৫৬ সালে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে। ১৯৬০ সালে রাজশেখর বসু মৃত্যুবরণ করেন।