হারিয়ে যেতে চান না তারা

জাতীয় দলে নতুনের আনাগোনা নতুন কিছু নয়। উপলক্ষ এলেই কোচরা পরখ করতে চান নতুনদের। বাংলাদেশ দলেও আসা-যাওয়া নিয়মিত। তবে খুব কমই পারেন প্রতিষ্ঠিত হতে। না পেরে নিভৃতেই বিদায় নিতে বাধ্য হন অনেকে। মার্চের শেষ সপ্তাহে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। কাল সেই দু’ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৩ জনের দলে আছেন দুই নতুন মুখ। সাইফ স্পোর্টিংয়ের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মেরাজ হোসেন ও পুলিশ ফুটবল ক্লাবের লেফটব্যাক ইশা ফয়সাল কোচ হাভিয়ের কাবরেরার গুডবুকে এসেছেন নিজ নিজ ক্লাবে পারফরম্যান্স করে। তারা চান না ধূমকেতু হয়ে মিলিয়ে যেতে। চান আলো ছড়িয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে প্রতিষ্ঠা পেতে।

২০ বছর বয়সী মেরাজের আসাটা ছিল অনুমিতই। মৌসুমের শুরু থেকেই দ্যুতি ছড়াচ্ছেন সাইফের জার্সিতে। মৌসুম শুরুর দুই টুর্নামেন্টে করেছেন চার গোল। এছাড়া লিগেও এক গোল আছে। বিকেএসপির ছাত্র মেরাজকে সাইফ দলে ভিড়িয়েছিল ২০১৭ সালে। এ বছর থেকে খেলছেন নিয়মিত। আর্জেন্টাইন কোচ ডিয়েগো ক্রুসিয়ানির ছোঁয়ায় আরও পরিণত হয়েছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলা মেরাজ। ক্যারিয়ারের শুরুটা স্ট্রাইকার হিসেবে। উইংয়েও খেলতে পারদর্শী। ক্রুসিয়ানি তাকে খেলাচ্ছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে। গোল করানোর পাশাপাশি গোল করার ক্ষমতাটাই তাকে নিয়ে এসেছে জাতীয় দলের আঙিনায়। এরজন মেরাজের কৃতজ্ঞতা অভিজ্ঞ কোচ ক্রুসিয়ানিকে, ‘এত কম বয়সে জাতীয় দলে ডাক পাব, ভাবিনি। তবে ক্লাব কোচের অধীনে ভালো খেলছিলাম বলে সুপ্ত একটা আশা ছিল। কোচের (ক্রুসিয়ানি) নির্দেশনা মেনে খেলেছি বলেই হয়তো জাতীয় দলের কোচের নজর কাড়তে পেরেছি। উনি আমাকে বদলে দিয়েছেন।’ বৈচিত্র্যময় ফুটবলার হলেও গোল করাতেই মেরাজের ঝোঁক বেশি, ‘দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত। তবে অবশ্যই চাইব বেশি বেশি গোল করতে। কারণ, জাতীয় দলে গোল নিয়ে সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। জাতীয় দলে অনেকেই আসেন, আবার চলে যান। আমি হারিয়ে যেতে চাই না। চাই জায়গাটা প্রতিষ্ঠিত করতে।’

মেরাজের মতো ইশা ফয়সালও অপেক্ষায় ছিলেন ভালো কিছুর। ২২ বছরের যুবক রংপুরের একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে উঠে এসে শীর্ষ লিগ খেলছেন তিন বছর ধরে। মুক্তিযোদ্ধা দিয়ে শুরু হলেও পুলিশ এফসির জার্সিতেই দাগ কাটতে সমর্থ হয়েছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে পুলিশকে প্রিমিয়ারে তুলতেও ভূমিকা ছিল। সুবাদে তিন বছর আগে পেয়েছেন কনস্টেবলের চাকরি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলা ফয়সাল লেফটব্যাক হলেও লেফট উইঙ্গার হিসেবেও আলো ছড়িয়েছেন চলতি লিগে। উপরে উঠে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুই গোল। জাতীয় দলে ডাক পাওয়াটা ফয়সাল মনে করেন ধারাবাহিক ভালো খেলার সুফল, ‘আমি আমার সাধ্যমতো খেলেছি। তা দেখে হয়তো কোচের ভালো লেগেছে। এরকম একটা খবর পাওয়া সত্যি আনন্দের। চেষ্টা করব নিজের জায়গাটা প্রতিষ্ঠিত করতে। আমি চাই না একবার দলে ডাক পেয়ে আবার বাদ পড়তে।’ লেফটব্যাক পজিশনে দারুণ খেলছেন ইয়াছিন আরাফাত। তাকে পেছনে ফেলে একাদশে সুযোগ পাওয়াটা ফয়সালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে চান ২২ বছরের তরুণ, ‘আধুনিক ফুটবলে লেফটব্যাকদের একই সঙ্গে উইঙ্গারের কাজও করতে হয়। এই লিগে আমার দুটি অ্যাসিস্ট আছে। চেষ্টা করব নিজের খেলা দিয়েই একাদশে জায়গা পেতে।’