গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ১৪ দিনব্যাপী বইমেলা। পরে করোনার সংক্রমণ কমলে ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেলার সময় বাড়ানো হয়।
মেলা পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, এবার নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ৩৪১৬টি, এগুলোর মধ্যে ৯০৯টি বই মানসম্পন্ন। এবার কমপক্ষে ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বিক্রির টাকার পরিমাণ গতবারের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৭ গুণ বেশি হয়েছে বলে মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়। এর আগে ২০২০ সালে মেলায় ৮২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। ২০২১ সালে বইমেলার বিক্রির হিসাব জানাতে পারেনি আয়োজক প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকাশক সমিতি জানিয়েছিল, ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে ৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে এবার বইমেলা সফল বলে মনে করছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ।
তিনি বলেন, বইমেলা সফল কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের একটু মেলা শুরুর সময়ের কথা মনে রাখতে হবে। তখন কিন্তু সবাই বলেছিলেন এবারের বইমেলা হলো, নিয়ম রক্ষার মেলা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মেলা। কিন্তু প্রকৃতি আমাদের সহায় হলো। কোভিড-পরিস্থিতির উন্নতি হলো। মেলার সময় বর্ধিত হলো। অসংখ্য মানুষ এই ৩১ দিনের মেলায় অংশ নিলেন, বিপুলসংখ্যার বই বিক্রি হলো এবং বিক্রির টাকার পরিমাণ গতবারের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৭ গুণ বেশি হয়েছে। এ-অবস্থায় নিশ্চয় বলা যায়, এবার একটি সফল বইমেলা হয়েছে।
মেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবার ১৬ মার্চ পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সমাপনী দিনের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করলে বলা যায় যে, এবার মেলায় ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি মোট ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছিল। এবার ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৩০ দিনে বাংলা একাডেমি ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে। ২০২১ সালে একাডেমি মাত্র ৪৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছিল। সমাপনী দিনের বিক্রি হিসাবে নিলে বাংলা একাডেমির এবার মোট বিক্রি হবে কমপক্ষে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
বইমেলায় এবার ৩৪১৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯০৯টি মানসম্পন্ন। ২০২০ সালে ৪৯১৯টি নতুন বইয়ের মধ্যে মানসম্পন্ন বই ছিল ৭৫১টি। এবার ২৬ শতাংশ মানসম্পন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। গতবার মানসম্পন্ন বই ছিল মোট বইয়ের ১৫ শতাংশ। গতবারের চেয়ে এবার বেশিসংখ্যক মানসম্পন্ন বই প্রকাশিত হওয়া নিশ্চয়ই আশাব্যঞ্জক।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বইমেলার সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অসিম কুমার দে। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ২০২২ প্রদান করা হয়।