লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তের ওপারে রেজাউল ইসলাম (৪২) নামে এক বাংলাদেশিকে ধরে মারধরের পর সীমান্ত বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে ভারতের নাগরিকরা। পরে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়ন ভেরভেরিরহাট সীমান্তের ওপারে এ ঘটনা ঘটে।
রেজাউল পূর্ব জগতবেড় গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে। এ সময় বিএসএফের গুলিতে আহত হন পাটগ্রাম পৌরসভার রেলগেট এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে জুম্মান বাবু (৩০)। তিনি বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্বজন, বিজিবি ও সীমান্তের বাসিন্দারা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় রেজাউল, জুম্মন বাবুসহ কয়েকজন জগতবেড় সীমান্তের ৮৬১ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলারের কাছ দিয়ে গরু পারাপারে যান। এ সময় ভারতের কুচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার তেঁতলিরছড়া গ্রামের ভগরামপুরের বাসিন্দারা তাদের ধাওয়া দিয়ে রেজাউল ও জুম্মনকে ধরে ব্যাপক মারধর করে। পরে গ্রামবাসী তাদের বিএসএফ ১৬৯ ব্যাটালিয়নের পারসা ক্যাম্পের টহল দলের কাছে হস্তান্তর করে।
এ সময় আহতরা পালানোর চেষ্টা করলে বিএসএফের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রেজাউল ঘটনাস্থলেই মারা যান। জুম্মান বাবু ভারতের মেখলিগঞ্জ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন।
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার জালাল সরকার জানান, সীমান্তে বাংলাদেশি নিহতের কথা তারাও শুনেছেন। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পারসা বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডারকে পতাকা বৈঠকের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈঠক হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পেয়েছি। ভারতের একটি গ্রামে আলু চুরি করতে গেলে চাষিরা রেজাউলকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। আবার বিএসএফের গুলিতে তিনি মারা গেছেন এমনও শুনেছি। সঠিক তথ্য পেতে বিএসএফসহ বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’