৫০ মামলায় ৭০ অভিযুক্ত শিশুকে সংশোধনের জন্য বাবা-মায়ের জিম্মায় দিয়ে জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুদের জন্য এক ব্যতিক্রমী উপহার দিলেন সুনামগঞ্জের শিশু আদালতের বিচারক জাকির হোসেন। প্রতিদিন দুটি ভালো কাজ করা এবং তা আদালত থেকে দেওয়া ডায়েরিতে লিখে রাখা ও মাদক থেকে দূরে থাকা, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলাসহ ৯ শর্তে কারাগারের পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রেখে সংশোধনের পথ করে দিয়েছেন বিচারক।
গতকাল সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন লঘু অপরাধে ওইসব শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে বাবা-মায়ের জিম্মায় দেন। এছাড়া ২০টি গাছ লাগানো, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলা এবং বাবা-মায়ের সেবা-যতœ করা ও কাজে-কর্মে তাদের সাহায্য করা, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা এবং ধর্মকর্ম পালন করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানোর শর্তে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়। এসব শর্ত পালন হচ্ছে কিনা তা আগামী এক বছর একজন প্রবেশন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর আদালতকে অবহিত করবেন।
শিশু আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হাসান মাহবুব সাদী জানান, আদালতের এমন উদ্যোগে কোমলমতি শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে।