মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর চালানো নিপীড়নকে প্রথমবারের মতো ‘জেনোসাইড’ বা ‘গণহত্যা’ হিসেবে ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।
ব্লিনকেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে যা স্পষ্টভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
এই হত্যাযজ্ঞের পেছনে তাদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যও ছিল উল্লেখ করে ব্লিনকেন বলেন, তারা রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিনাশ করতে চেয়েছে।
গতকালের এই ঘোষণার বিষয়টি জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। যদিও আগের দিনই সিএনএন ও রয়টার্স জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্মমতা চালানো হয়েছে, জাতিসংঘ তাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আসছিল শুরু থেকেই। তবে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের সেইসব ঘটনাকে ‘জেনোসাইড’ বলতে দ্বিধায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ওই ঘটনায় মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার প্রস্তাব করে জাতিসংঘ।
গত রবিবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর জেফ মার্কলে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত বর্বরতাকে বাইডেন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমি তাদের প্রশংসা করছি। এ ঘোষণাটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা এসেছে এবং এই নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এটা একটি শক্তিশালী ও বিশেষভাবে গুরুত্ববহ পদক্ষেপ।’
তিনি বলেন, আমেরিকাকে অবশ্যই এক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে নেতৃত্বে আসতে হবে এটা স্পষ্ট করার জন্য যে এ ধরনের নৃশংসতা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না, ধামাচাপা পড়ে যাবে না, সেটা যেখানেই ঘটুক না কেন।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের উত্তরের রাখাইন রাজ্যে ভয়ানকভাবে, বিস্তৃতভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেখানকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করেছে এবং রোহিঙ্গাদের আবাস থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত হিসেবে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মিন অং হ্লায়িংসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।