একজনের চেষ্টায় ২৫ লাখ মানুষ নিরাপদে

অলেকসান্ডর কামিশিন, ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন রেলপ্রধান। যুদ্ধের আগে ছিলেন একজন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা। নিজের পরিকল্পনা, শ্রম আর দেশপ্রেমের কারণে তিনি এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। রাশিয়ার ‘হিট লিস্টের তালিকায়’ থাকার পর দেশ ছাড়তে থাকা লাখো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩৭ বছর বয়সী এই যুবক এখন জাতীয়ও বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে। 

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অল্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রেলের সংস্কার বিভাগ থেকে যুদ্ধকালীন রেলপ্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন কামিশিন। দায়িত্ব নিয়েই রেলের সময়সূচি আর রুটের পরিবর্তন এনেছেন তিনি। ক্রমাগত তার ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে কোনো ধরনের হামলা এড়িয়ে নিরাপদে দেশ ছাড়তে পেরেছেন অনেকে।

রেলের পরিকল্পনা বদলের মতোই নিজেও একটানা কখনো এক জায়গায় বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না। যে কারণে আর রাশিয়ানরাও তার সঠিক অবস্থান জানতে পারে না।

এ ছাড়া স্থানীয় রেলকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এক জায়গায় থামেন তো পরক্ষণেই অন্য জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে চলে যান এবং একই সঙ্গে ক্রমাগতভাবে কিয়েভের সিনিয়র নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।

কামিশিন এ ব্যাপারে বলেন, ‘সেসব শত্রুদের চেয়ে বেশি দূরদর্শী হতে হবে যারা কি-না আমাদের সর্বদায় ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

বিবিসি জানাচ্ছে, কামিশিনের নেতৃত্বেই যুদ্ধ চলাকালে তার কর্মীরা প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে নিরাপদে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। কামিশিনের দাবি, ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩ রেলকর্মী নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের রেলস্টেশনগুলোতে রুশ অভিযান নিয়ে কামিশিন বলেন, ‘তারা প্রতিদিন স্টেশনে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে আর গোলাগুলির মুখে পড়ছে। এভাবেই রেলকর্মীরা মানুষকে বাঁচাতে যারপরনাই সহায়তা করে যাচ্ছে।’

এ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচল রাখার জন্যও নানা পরিকল্পনা দিচ্ছেন তিনি। তার পরিকল্পনা মতোই গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে সরানো হচ্ছে।