নারায়ণগঞ্জ বন্দরে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে হত্যার অভিযোগে দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির পরিবারে দাবি, ধর্ষণ মামলার বাদীপক্ষের লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
তবে পুলিশ বলছে, বাদীর পরিবারের লোকজন ওই আসামিকে ধরতে যাওয়ার সময়ে তিনি গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়লে আহত হন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।
এ ঘটনা নিহতের স্বজনেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের নাম মো. রকি (২০)। বন্দরের চিড়ইপাড়া কলোনির বাসিন্দা তিনি। নিহতের ঘটনায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউপির চিড়ইপাড়া কলোনির মো. রকি ও তার চাচাতো ভাই আলমগীর শুক্রবার রাতে গার্মেন্টস শ্রমিককে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনায় রকি ও আলমগীরকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই গার্মেন্টস কর্মী।
রকির স্বজনদের দাবি, ধর্ষণে অভিযুক্ত দুজন পালিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান জানতে পেরে বাদীর পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে ধরে এনে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ রকিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার আগে বুধবার সকালে মৃত্যু হয় তার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশ লাশ রেখে গেছে হাসপাতালে। হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
রকির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় অবরোধ করে এলাকাবাসী। এতে মহাসড়কের দুপাশে ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা ঘটনাস্থালে এসে রকির মৃত্যুর ঘটনা বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
ওসি জানান, গত ১৯ মার্চ বন্দর থানার একটি ধর্ষণ মামলার আসামি ছিলেন রকি। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাতে ওই ধর্ষণ মামলার বাদীর দুই ভাই তাকে দেখে ধরতে যায়। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোডে একটি গণপরিবহন থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন রকি। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান ওই দুজন। পরে পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতালে যায়। এ ঘটনায় বাদীর দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে।