সস্তা জনপ্রিয়তা চাই না

বিশ্বসুন্দরী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আবারও পাশর্^ অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

অনুভূতি ...

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হলো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। দেশের গ-িতে চলচ্চিত্রশিল্পের সর্বোচ্চ পুরস্কার। তাই এমন পুরস্কার যতবারই পাই না কেন, উচ্ছ্বাস বা আবেগের কমতি থাকে না। এবারও যখন শুনলাম বিশ্বসুন্দরী সিনেমার জন্য আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, তখন থেকেই খুব গর্ব অনুভব করেছি। আসলে যেকোনো পুরস্কারই তো ভালো কাজের স্বীকৃতি। আমি আজীবন শুধু ভালো কাজের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছি। এই পুরস্কার পাওয়ার দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে যায়। মনে হয় আমাকে আরও ভালো কাজ করতে হবে। এমন কাজ করা যাবে না, যা আমার দেশের মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। শুধু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কখনোই কাজ করতে চাই না। কারণ চলচ্চিত্র মানুষকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সে কথাই বলছিলেন যে, এমন চলচ্চিত্র হওয়া উচিত যা বিনোদনের পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও মেলে ধরবে।

আহ্বান ...

এফডিসিভিত্তিক চলচ্চিত্রের অনেক মানুষ আছেন, যারা এখনো আমাকে বা জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রের অভিনেতা-কলা কুশলীদের চলচ্চিত্রের মানুষ মনে করেন না। কিন্তু আমরা তো চলচ্চিত্রকে সমানভাবে ভালোবাসি। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। রেহানা মরিয়ম নূর, মাটির প্রজার দেশে, অজ্ঞাতনামা, মাটির ময়না, স্বপ্নডানায়ের মতো সিনেমা আমাদের দেশকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দরবারে সুনামের সঙ্গে তুলে ধরেছে। এ ধরনের ভালো সিনেমা আরও হওয়া উচিত। তাহলেই ভালো দর্শক শ্রেণি তৈরি হবে। যতদিন তা না হচ্ছে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের সংকটাবস্থা কাটবে না। তাই চলচ্চিত্রের সবাইকে আহ্বান করব, আমরা একযোগে শুধুই চলচ্চিত্র উন্নয়নে কাজ করি।

নতুন সিনেমা ...

সম্প্রতি কিছু খ- নাটকের কাজ করলাম। ধারাবাহিক নাটক আপাতত করছি না। এছাড়া তিনটি সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলাম। ছবিগুলো হলো মুশফিকুর রহমান গুলজারের ‘টুঙ্গিপাড়ার দুঃসাহসী খোকা’, মির্জা সাখাওয়াত হোসেনের ‘ভাঙন’ ও অরুণ চৌধুরীর ‘জলে জ¦লে তারা’। শেষ ছবিটি আমার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। স্ত্রীর চরিত্রে আছেন মুনিরা মিঠু। দুজনই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।

ওটিটি ...

আমাদের দেশে ওটিটির যাত্রা শুরুর পর থেকে কলকাতার হইচইয়ের মতো একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। ওটিটির কনটেন্টে ভায়োলেন্স ও যৌনতা দেখানো হয়। কিন্তু এখন আমরা নিজেদের পথ আস্তে আস্তে তৈরি করছি। আমি সম্প্রতি রায়হান রাফির ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ নামে একটি ওয়েব ফিল্ম করেছি চরকির জন্য। দারুণ গল্প, নির্মাণ। এই কাজটির জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে সেরা ওয়েব ফিল্ম, সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তমা মির্জা ও সেরা অভিনেতা হিসেবে আমি পুরস্কার পেয়েছি।