ধর্ষণ ও হত্যা মামলা

কুষ্টিয়া খাগড়াছড়ি ও ফেনীতে ১১ জনের যাবজ্জীবন

তরুণকে অপহরণের পর নিখোঁজের মামলায় কুষ্টিয়ায় আটজনকে, কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে খাগড়াছড়িতে দুজনকে এবং ভাতিজাকে হত্যার ঘটনায় ফেনীতে নারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

কুষ্টিয়া : মিরপুর থানার ফিরোজ আহমেদ কাজল ‘হত্যা’ মামলায় আটজনের যাবজ্জীবন সাজাসহ প্রত্যেকের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজার আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১-এর বিচারক তাজুল ইসলাম পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলো মিরপুর উপজেলার কলিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে পলাতক মাসুদ, ছের আলীর ছেলে সিদ্দিক, বড়িয়া গ্রামের নরুল ইসলামের ছেলে পলাতক মাসুম মোল্লা, গাংনী উপজেলার হারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন, মৃত শের আলী মোল্লার ছেলে মেসকাত আলী মোল্লা, দৌলতপুর উপজেলার সালিমপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ বিশ্বাসের ছেলে সোহেল রানা, কামাল হোসেনের ছেলে পলাতক ওয়াসিম রেজা এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকার মৃত লালন সেখের ছেলে জাকির হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১২ জুলাই বিকেলে মিরপুর উপজেলার বাড়িয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ কাজল (২৮) নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাজলের জীবিত অথবা মৃত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

খাগড়াছড়ি : কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু তাহের এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলো মাটিরাঙ্গার কাঁঠালবাগান এলাকার রেজাউল হাওলাদার ও সাবু মিয়া।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল দন্ডপ্রাপ্ত সাবু মিয়ার মাটিরাঙ্গার মুসলিমপাড়ার বাগানবাড়িতে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ভিকটিম গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে আট মাস চিকিৎসাধীন থেকে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় ওই কিশোরী।

ফেনী : পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে ভাতিজা তরিকুল ইসলামকে (৩) হত্যা মামলায় চাচি আর্জিনা আক্তারকে (৩৩) যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ফেনী জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটি দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের মাওলানা আবু বকরের একমাত্র ছেলে।