নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদকে রাজাকারপুত্র আখ্যা দিয়ে তার হাত দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠে সরকারিভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান।
ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরন্নবী অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের বাবা শওকত আলী ছিলেন রাজাকার সদস্য। ১৯৭১ সালে তিনি উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের পিস কমিটির সভাপতি ছিলেন। এলাকার কুখ্যাত রাজাকার সামছুল হক টগরার ঘনিষ্ঠ সহচর থেকে তিনি যুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেন ও লুটপাটে সহযোগিতা করেন। তার ছেলে তোফায়েল ছিলেন ফ্রিডম পার্টির সদস্য। তিনি সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা করে আসছেন। সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক পদটি বাগিয়ে নেন। পরে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকার ওপর ভর করে গত নির্বাচনে বনে যান উপজেলা চেয়ারম্যান। রাজাকারের ছেলের জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে আমরা জাতীয় পতাকার অবমাননা মনে করে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান চয়ন বলেন, ‘আমাদের পিতারা তার অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। যৌক্তিক কারণে আমরাও বর্জন করেছি। আমাদের দাবি, আগামীতে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী যেন আওয়ামী লীগে কোনো পদ বা মনোনয়ন না পায়। তোফায়েল আহমেদ যেদিন থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করে আসছেন, আমরা তখন থেকে এই বর্জন করে আসছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, ‘বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে সম্মিলিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অংশটুকু বর্জন করেন।’
উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সঠিক নয়। সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে আমি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। এ সময় বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমার জানা নেই।’