গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ষাটোর্ধ্ব চাচিকে জনসম্মুখে বুকে সজোরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পরে ভাড়াটে দলবল নিয়ে চাচির সদ্য নির্মিত একটি বিল্ডিং বাড়ি ভাঙচুর করে।
এ সময় ওই নারী লাথির আঘাতে মাটি পড়ে গেলে ইটে লেগে মাথা থেঁতলে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন স্বজনরা।
সোমবার বিকেলে এই পাশবিক ঘটনা ঘটে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ গ্রামে।
জমিজমার বিরোধে নারীসহ অন্য স্বজনদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ওই বৃদ্ধা নারীকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় উঠে।
খবর পেয়ে সকালেই শ্রীপুর মডেল থানার ওসি, কালিয়াকৈর এএসপি সার্কেল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ ঘটনায় নির্যাতনে শিকার স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নির্যাতনে শিকার বৃদ্ধার নাম মনোয়ারা বেগম (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের আবদুল হাইয়ের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত ভাতিজার নাম মাসুদ রানা (২৫)। তিনি আবদুল হাইয়ের ছোট ভাই নজরুল ইসলামের ছেলে। তার ভাড়াটে অন্য সহযোগীরা হলেন- মো. মজনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রুমান মিয়া (২৪) ও আরমার মিয়া (২০)। আরও বেশ কজন অপরিচিত ছিল বলেও ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে।
মনোয়ার বেগমের মেয়ে আকলিমা খাতুন বলেন, আমি বাবার কাছ থেকে আমার পাওনা অংশ জমিসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার জমি কিনেছি। চার পাঁচ বছর আগেই এ জমি কিনে রেখেছি। আমার অন্য চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা সবই জানে।
সম্প্রতি আমি আমার জমিতে বিল্ডিং ঘরের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে ঘরের আশি শতাংশ কাজ শেষের দিকে। গতকাল সোমবার আচমকা কিছু লোকজন নিয়ে আমার বাড়ির ওয়াল ভাঙতে শুরু করে চাচাতো ভাই মাসুদ ও তার সহযোগীরা।
এ সময় আমার মা বাধা দিতে এগিয়ে গেলে মায়ের বুকে সজোরে লাথি মারে মাসুদ। এ সময় আমার মা (মনোয়ারা বেগম) মাটিতে পড়ে যায়। পরে মাটিকে পড়ে থাকা ইটে মাথা লেগে থেঁতলে গেছে। মাথা থেকে অঝোরে রক্ত বের হতে থাকে। এ সময় আমরা মাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সে সুযোগে মাসুদ কুড়াল দিয়ে ঘরের নতুন দেয়াল ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে অন্য স্বজনরা এগিয়ে এলে মাসুদ ও সহযোগীরা চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনোয়ারা বেগম প্রতিবাদ করে এগিয়ে গেলে ভাতিজা মাসুদ বা পা দিয়ে সজোরে ওই নারীর বুকে লাথি মারে। এ সময় বয়স্ক নারী মাটিতে ইটের ওপর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ সময় প্রতিবেশীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসলে মাসুদ ও তার সহযোগীরা নানা হুমকি দেয়। এ সময় মাসুদ কুড়াল দিয়ে বিল্ডিংয়ের তৈরি করা ওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
কালিয়াকৈর সার্কেলের এএসপি আজমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একজন বয়স্ক নারীর ওপর এমন আক্রমণ (বুকে লাথি মারা) খুবই বর্বর। এ ব্যাপারে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আমরা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব আইনগত ব্যবস্থাই গ্রহণ করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়ার ভুইয়া বলেন, সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ভেঙে ফেলা বাড়ির কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যেন আর কোনো আইনের ব্যত্যয় না ঘটে সে জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।