ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলা: ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

সিলেটের বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লবের আদালতে এই মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২ আসামি- শফিউর রহমান ফারাবী ও আবুল খায়ের রশীদ আহমেদকে কারাগারকে আদালতে হাজির করা হয়।

অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় এদের মধ্যে শফিউর রহমান ফারাবীকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, কারাবন্দি অবস্থায় ১ আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পরে প্রিজন ভ্যানে তাদের আবারও কারাগারে নেওয়া হয়।

গত ১৪ মার্চ বিচারিক আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। ওই দিন আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) মুমিনুর রহমান টিটু জানিয়েছিলেন, ৪ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। পলাতক ৩ আসামি—ফয়সল আহমদ, হারুন অর রশিদ ও আবুল হোসেনের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নূরানী আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি 'যুক্তি' নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

সে রাতেই সিলেটের বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন অনন্ত বিজয় দাশের ভাই রত্নেশ্বর দাশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশের কাছে থাকলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।

এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা আরমান আলী ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিলে আদালত তা গ্রহণ করেন।

ওই অভিযোগপত্রে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যায় শফিউর রহমান ফারাবী, মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী, আবুল খায়ের রশীদ আহমেদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, হারুনুর রশীদ এবং ফয়সল আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়।

আসামিদের মধ্যে ফারাবী এবং আবুল খায়ের এখন কারাগারে আছেন। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া মান্নান ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। বাকি ৩ আসামি এখনো পলাতক।

প্রথম দিকে এই মামলার বিচারকাজ চলে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর ২০২০ সালের শুরুর দিকে মামলাটি সেখানে স্থানান্তর করা হয়।