দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বাংলাদেশকে উন্নত পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, আমরা এই দেশকে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। চলমান উন্নয়নে যাতে ব্যত্যয় না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের আজকের উন্নয়নের মূলে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু আর এই উন্নয়নের প্রধান কারিগর হলেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু সাম্য ও সমতা ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মাঝেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। বঙ্গবন্ধুর ঠিকানা হলো মানুষ ও বাঙালি। তিনি মানুষকে ভীষণ ভালোবাসতেন। জনতার ভালোবাসাই ছিল তার প্রধান সম্পদ। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য তার দরদ ছিল অপরিসীম। তিনি বাঙালিদের প্রচণ্ড বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনোই বিশ্বাস করতেন না যে বাঙালিরা তাকে হত্যা করতে পারে।
তিনি বঙ্গবন্ধুর কর্মময় সংগ্রামী জীবনের ঐতিহাসিক বিষয় তুলে ধরে বলেন, আমাদের বিপদে-আপদে বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করার জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কাছেই ফিরে যেতে হবে।
আজকের এই আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশেরই নয়, সারা বিশ্বের সেরা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে উন্নীত হয়েছে। আমি মনে করি, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে রোগমুক্তির আরোগ্যলাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে হেলথ সেক্রেটারি করা হয়েছিল একজন চিকিৎসককে। ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল একজন শিক্ষাবিদকে দিয়ে। যার যে অভিজ্ঞতা আমরা যদি সেভাবে তাদের কাজে লাগাতে পারি, তাহলে প্রত্যেক সেক্টরেই আমরা উন্নত হতে পারব। মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টিম করা হলে ভালো হয়। মন্ত্রীসহ কর্তাব্যক্তিরা যদি তাদের পরামর্শ মতো কাজ করেন, তাহলে আমরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। করোনার সময়ে সাউথ এশিয়াতে বাংলাদেশ প্রথম এবং সারা বিশ্বে ২৬তম অবস্থান, এটি কিন্তু এমনিতেই হয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় চিকিৎসকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, আমরা সফলভাবে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। একদিনে এক কোটি ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার ইতিহাস; সারা বিশ্বের কোথাও নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো, তিনি করোনা টিকায়ও সেটি আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন। আর তার বদৌলতে আমরা করোনা সংক্রমণমুক্ত বাংলাদেশের প্রায় দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি।
গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ডা. এ এইচএম জুহুরুল হক সাচ্চু, ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইশতিয়াক আজমেদ শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান।