অস্বাভাবিক চড়া বাজার দিশেহারা ক্রেতা

রমজান মাসের চাঁদ ওঠার আগেই অস্বাভাবিক তেতেছে রাজশাহীর বাজার। বিশেষ করে এ মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায় সেগুলোর দাম বেড়েছে অনেক বেশি। গত শনিবার সকাল থেকেই চড়া দামে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিন বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এই সুযোগে বাড়তি দামও আদায় করেছেন বিক্রেতারা। গতকাল রবিবারও চড়া দামেই বিক্রি হয়েছে বেশিরভাগ পণ্য।

দাম বাড়ার সম্পর্কে বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে কেনা তাই বেশি দামে বিক্রি। ২-৩ রোজা পার হওয়ার পর কিছু কিছু পণ্যের দাম কমবে বলেও মনে করছেন অনেক বিক্রেতা। এদিকে জিনিসপত্রের এই অস্বাভাবিক দামে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। দাম বৃদ্ধিতে হিসাব মেলাতে পারছেন না ক্রেতারা। 

রমজান সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরেই একটু একটু করে বাড়ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। গত শনিবার থেকে রাজশাহীতে আরেক দফায় বেড়েছে খাদ্যদ্রব্যের দাম। আর এই দামই রয়ে গেছে গতকালও। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মাছ, মাংস ও মুরগির দাম। গতকাল রবিবার রাজশাহী নগরীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা উপস্থিতি অনেক বেশি। শনিবারও মাছ-মাংসের দোকানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়।

কয়েক দিনের ব্যবধানের সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা, সাদা লেয়ার ২২০ টাকা, লাল লেয়ার ২৮০ টাকা, পাতিহাঁস ৩২০ টাকা, রাজহাঁস ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দাম বৃদ্ধিতে থেমে নেই গরু ও খাসির মাংসও। কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের দাম। প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৫৫ টাকা, পোলট্রির সাদা ডিম ৩০ টাকা ও লাল ডিম ৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সবজির মধ্যে বেগুন ও শসার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এক দিনের ব্যবধানে। গতকাল বেগুন ও শসা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা করে। এছাড়া প্রতি কেজি আলু ১৫ থেকে ২০ টাকায়, করলা ১২০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, সজনা ১২০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪৫ টাকা ও ফুলকপি একটি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি রসুন ৫০ টাকা ও আদা ৮০ টাকায় পাওয়া গেছে। শাকের মধ্যে পুঁইশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাহফুজুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দামেই তো ঊর্ধ্বগতি। প্রতিদিনই কোনো না কোনো দ্রব্যের দাম বাড়ছে। সবজির দাম মোটামুটি সাধ্যের ভেতর থাকলেও মাছ-মাংসের দাম নাগালের বাইরে। প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ছাড়া খেয়ে বাঁচা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাহেববাজারে আসা ক্রেতা শরিফা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করেই বললেন, ‘এভাবে বাঁচা মুশকিল। প্রত্যেকটা খাবারের দাম বেড়ে গেছে। কীভাবে চলবে বলেন?’