এবার বরিশাল জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদকসহ দুজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বরিশাল নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের আধিপত্য নেওয়াকে কেন্দ্রে করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী শ্রমিকেরা পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস-কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুমন মোল্লাকে (৪০) তার সহযোগী আল আমিন (২৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার ইফতারির কিছু আগে রূপাতলী সংলগ্ন বসুন্ধরা হাউজিংয়ের সুমন মোল্লার বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
এ সময় তার বাড়িসহ আরও তিনটি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুমন মোল্লার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আহত সুমন মোল্লার স্ত্রী আইরিন।
সুমন মোল্লার স্ত্রী আইরিন আক্তার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় ইফতার করার জন্য সুমন মোল্লা রূপাতলী বসুন্ধরা হাউজিংয়ের বাড়িতে আসেন। ইফতারির ৬-৭ মিনিট আগে বাড়িতে প্রবেশ করার সময় ২৫-৩০ জন অস্ত্রধারী তাকে ধরে নিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কোপাতে থাকে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আল আমিন তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
‘এ সময় সুমন মোল্লার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং সুমন মোল্লার বাড়ি ও পাশের আরও দুটি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।’
স্থানীয় কাউন্সিলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্ত্রী আইরিন। বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে তার ওপর এই হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন তিনি।
আইরিন আক্তার অভিযোগ করেন, মেয়রের নির্দেশে তার লোকেরাই এই হামলা করেছে। হামলার সঙ্গে কাউন্সিলর জাকির মোল্লা, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রনি, সোহেল মোল্লা, মনির মোল্লা ও মঈন সিকদার এ হামলা চালিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মেয়র অনুসারী বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা আজ রূপাতলী এলাকায় যাইনি। তাই এটা কারা করেছে সে ব্যাপারে কিছুই জানি না। কেউ অভিযোগ করলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না। ওখানে কী ঘটেছে সেটা আমাদের জানা নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলর জাকির মোল্লা বলেন, সুমন মোল্লার বাসার সামনে ভিড় দেখে সেখানে যাই। আমি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না।
মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাসস্ট্যান্ডসহ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম বলেন, ‘কি নিয়ে ঘটনা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল রবিবার দুপুরে মেয়র অনুসারী শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকেরা প্রতিমন্ত্রী অনুসারী শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই হামলায় বরিশাল সদর আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহমুদ ও তার পক্ষের ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়।
সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নির্দেশে এই হামলা হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি।