‘মামলার খরচ চালাতে বারবার ডাকাতি করি’

‘ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়লে যেতে হয় জেলে। তারপর মোটা অংকের টাকা খরচ করে নিতে হয় জামিন। সেই টাকা উসুল করতে আবারও সদস্য জোগাড় করে শুরু করি ডাকাতি।’

গতকাল সোমবার নরসিংদীর সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছেন বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও হত্যাসহ নয়টি মামলার আসামি ইয়াকুব। গত রবিবার ভোরে নরসিংদী শহরের আরশীনগর রেল ক্রসিংয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় তাকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রামপুর এলাকার মৃত মোতালিব মিয়ার  ছেলে ইয়াকুব (৩৫), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার উত্তর হাসা এলাকার হেদু মিয়ার ছেলে শাহজাহান (৩২), ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার রুহিপাগারিয়া এলাকার শাহিন মিয়ার  ছেলে সোহাগ (২৫) ও ভোলা জেলার লালমোহন থানার দক্ষিণ আড়ালিয়া গ্রামের রতন মিয়ার  ছেলে আরিফ (২২)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরে শহরের আরশীনগর মোড়ে টহলের সময় একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার সংকেত দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় পিকআপ ভ্যানটি বেপরোয়া গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ পিকআপ ভ্যানটির গতিরোধ করে থামায় এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এসময় দুজন পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কুখ্যাত ডাকাত ইয়াকুবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও হত্যাসহ ৯টি মামলা রয়েছে। পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে তালা কাটার মেশিন, চাপাতি ও রড উদ্ধার করা হয়।   

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কথা হয় ইয়াকুবের সঙ্গে। গ্রেপ্তার হয়ে জেলখাটার পরও কেন বারবার ডাকাতি করেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াকুব সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতের খরচ, পারিবারিক খরচ ও জামিনের জন্য কয়েক লাখ টাকা ঋণ হয়। সেজন্যই আবারও সদস্য সংগ্রহ করে ডাকাতি শুরু করি। ১৫ দিন আগে ডাকাতি মামলার জামিন নিতে আইনজীবীকে লক্ষাধিক টাকার ওপরে দিতে হয়েছে।

নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।