রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘটু গ্রামের দুই সাঁওতাল কৃষকের ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় গ্রেপ্তার গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে (৩০) কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীর আমলি আদালতের (গোদাগাড়ী) বিচারক লিটন হোসেন এ আদেশ দেন।
এদিকে তদন্তে অপারেটর সাখাওয়াতের কর্মকাণ্ডে বেশ কিছু অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে গভীর নলকূপের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। গ্রেপ্তারের পর গত রবিবার তাকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএমডিএ কর্র্তৃপক্ষ।
গত ২৩ মার্চ নিমঘটু গ্রামের সাঁওতাল কৃষক অভিনাথ মারাণ্ডি (৩৭) ও তার চাচাতো ভাই রবি মারাণ্ডি (২৭) বিষপান করেন। এতে অভিনাথ সেদিনই মারা যান। রবি মারা যান ২৫ মার্চ। পরিবারের দাবি, নলকূপ অপারেটর ও ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি সাখাওয়াত এ দুই কৃষককে বোরো ধানের জমিতে পানি না দিয়ে হয়রানি করেছেন। এর প্রতিবাদে তারা বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এ নিয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে।
গত শনিবার গভীর রাতে গোদাগাড়ী উপজেলার কদমশহর এলাকা থেকে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে। গতকাল পুলিশের আদালত পরিদর্শক (জেলা) আবদুর রফিক জানান, সাখাওয়াতকে রবিবার রাজশাহীর আমলি আদালতে (গোদাগাড়ী) হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। ওইদিন শুনানি হয়নি। তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। আজ (মঙ্গলবার) এ নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
এদিকে বাড়তি টাকা আদায়সহ বেশ কিছু অনিয়ম খুঁজে পাওয়ায় বিএমডিএর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সাখাওয়াতকে বিরুদ্ধে গভীর নলকূপ অপারেটর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএমডিএ কর্র্তৃপক্ষ। বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, ‘দুই কৃষক কেন আত্মহত্যা করেছেন সেটি আমাদের তদন্তের বিষয় ছিল না। নলকূপ অপারেটরের বিরুদ্ধে পানি না দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খানের নেতৃত্বে তদন্ত দল কাজ করেছে। সোমবার তারা একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে পানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বাড়তি টাকা আদায় করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব কারণে তাকে অপারেটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানে অস্থায়ী একজনকে অপারেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’