পাহাড়ি ঢলে ডুবছে হাওর, উৎকণ্ঠায় কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের পাঁচটি বাঁধ ভেঙে গেছে। এত ডুবেছে কৃষকের হাজার হাজার একর ফসল। জেলার বেশির ভাগ হাওরের বাঁধেও দেখা দিয়েছে ফাটল। এমন পরিস্থিতিতে উৎকণ্ঠায় কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকেরা। স্বেচ্ছাশ্রমে করছেন বাঁধ মেরামতের কাজ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার তাল হাওরে বাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে ২০০ হেক্টরের ফসল। ঝুঁকিতে রয়েছে ২০ হাজার হেক্টরেরও বেশি।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এই বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রবলবেগে পানিতে তলিয়ে যায় হাওর। তার আগেরদিন গেল সোমবার রাত থেকে হাওরের ডুবাইল অংশের বরুণ কাইচ্ছা বাঁধে ধস শুরু হয় এবং বাঁধের নিচ দিয়ে পানি চুঁইয়ে ঢুকতে থাকে।

উপায়ান্ত না পেয়ে ফসল রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন হাওরের প্রতিটি কৃষক পরিবার। কিন্তু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের সারা বছরের খোরাক।

পাহাড়ি ঢলের স্রোত যেন কৃষকের বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলছে। দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস। শাল্লা উপজেলার হাওরের কৃষক রজত দাস বলেন, ‘চারদিকে বাঁধ ভেঙে হাওর ডুবছে। ফসল রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই। তাই কাচা ধানগুলো নিজে খেতে না পারলেও গরুর খাবার হবে ভেবে কেটে নিচ্ছি।’

একই এলাকার কৃষক জয়ন্ত দাস বলেন, চোখের সামনে নিজের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। সারা বছর কীভাবে খাব? পরিবার চালবে কেমন করে? কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, জেলায় এ পর্যন্ত সাড়ে পাঁচশো হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহযোগিতার জন্য ছুটি বাতিল করে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তাদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ আর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে হাওরের কৃষকদের এমন সর্বনাশ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’। সংগঠনটি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বুধবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কৃষকসহ সংগঠনের নেতারা। এ সময় বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

পরে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেন।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণে যদি কোনো পিআইসি সদস্য অনিয়ম করে থাকে তাহলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাঁধের কাজে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিও যদি দোষী হন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।