অনাহারের ঝুঁকি বাড়ছে শ্রীলঙ্কায়

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। দেশটির ইতিহাসে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিক্ষোভের মধ্যেই গত মঙ্গলবার জরুরি শাসন অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। দেশের চরম সংকট মোকাবিলায় গত ১ এপ্রিল জরুরি অবস্থা জারি করে লঙ্কা সরকার। এ সংক্রান্ত নতুন গেজেটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরুরি অবস্থার অধ্যাদেশটি অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে ভয়াবহ লোডশেডিং এবং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এর জেরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। দাবি উঠেছে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের। এদিকে রাজাপাকসের জোট সরকার ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন ৪০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা। রাজাপাকসের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা পদুজেনা পেরামুনা (এসএলপিপি) জোট সংশ্লিষ্ট দলের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, তারা এখন স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এদিকে চলমান সংকটে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কায় অনাহার-অর্ধাহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আগামীতে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর তীব্র ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে গতকাল বুধবার সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার। শ্রীলঙ্কার সংসদের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দানা আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ‘সামনে আরও কঠিন সময় আসছে।’ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সমস্যার বিষয়ে সংসদে দু’দিনের বিতর্কের প্রথম দিনে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট। কিন্তু আমি মনে করি এটি সংকটের সূচনা মাত্র। খাদ্য, গ্যাস এবং বিদ্যুতের ঘাটতি আরও প্রকট হবে। দেশে অত্যন্ত তীব্র খাদ্য ঘাটতি এবং অনাহার দেখা দেবে।’

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে বেদনাদায়ক মন্দার মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক দুর্দশার সৃষ্টি করেছে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতাসহ খাদ্য ও জ্বালানির ঘাটতি। যে কারণে দেশটির সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনগণ দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার চেষ্টা করেছে। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রত্যেক দিন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে।