যশোরে ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে এলাকা ছাড়া করা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে নিজেই গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত যুবরীগ নেতা।
তার হুমকি দেয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি গা ঢাকা দেন।
এদিকে শিক্ষককে হত্যার হুমকির ঘটনা তদন্তে পুলিশকে অনুমতি দিয়েছে আদালত। বুধবার যশোর সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম এ অনুমতি দেন।
এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে যশোর সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম মাজহার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামকে হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ৩১ মার্চ ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।
সাধারণ ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, যশোর সদর উপজেলার ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের কমিটির অগোচরে যুবলীগ নেতা মাজহার ও তার সহযোগীরা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসাবে মনিরুজ্জামানকে নিযুক্ত করেন। এতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও অভিভাবকেরা ওই কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনাসহ একজন অভিভাবক হাইকোর্টে মামলা করেন। বর্তমানে এই মামলাটি চলমান রয়েছে।
এর জের ধরে গত ২৪ মার্চ দুপুর দুইটার দিকে মাজহার প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়ে কমিটি অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলেন। তাকে কমিটির বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে জানালে গালিগালাজসহ জীবননাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা অভিযোগ তদন্তের জন্য ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোকাররমকে দায়িত্ব দেয়। দায়িত্ব পাবার পর মঙ্গলবার তিনি তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। গতকাল বুধবার আদালত তাকে অনুমতি দেয়।
ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোকাররম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা আমরা তাকে দিচ্ছি। হুমকির ঘটনার পর ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, অডিও ভাইরাল হওয়ার পরে অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম তার মুঠোফোন বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছেন।
তবে ফোনে হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের কাছে আমিও পড়েছি। ছয় মাস আগে এমপি কাজী নাবিল আহমেদ স্থানীয় মনিরুজ্জামানকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি করার জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কমিটি চেয়ে শিক্ষা বোর্ডে চিঠি পাঠাননি।
তিনি আরও বলেছেন, যে কারণে ইছালী ইউনিয়নে এমপি নাবিল আহমেদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, এটা সত্য। তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওর কিছু কথা এডিট করা।
যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে অডিও ভাইরালের পর বিভিন্ন মহল থেকে গুঞ্জন শোনা গেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মাজাহারুল ইসলামকে আটক করেছে। তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শহরের একটি স্পট থেকে তুলে নিয়ে গেছে।
তবে, তার স্বজনেরা জানিয়েছেন, তিনি আটক হননি, পলাতক রয়েছেন।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার জানান, আটকের তথ্য সঠিক নয়। তবে ওই জিডিটি ডিবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।