বাইরের খবরে সিরিজ চলাকালীন বাংলাদেশ দলের টালমাটাল হওয়াটা নতুন খবর নয়। কোনো এক হারের পর প্রায়ই বাংলাদেশ দলকে ঘিরে এমন কিছু হয়ে থাকে। সেই গুঞ্জনের ঝড়ের ঝাপটা যে এবারও বড় ধাক্কা দিয়েছে দলকে তা স্পষ্ট। মুমিনুল হক শান্ত স্বভাবের। পাল্টা উত্তর আর প্রশ্ন খুব একটা করেন না। তাই দলের বাইরের গুজব নিয়ে খুব আগ্রহও দেখালেন না। টেস্ট অধিনায়ক তাই বাইরের কথা ভুলে গত টেস্টের ইতিবাচক দিকগুলোয় নজর দিচ্ছেন। একমাত্র এই দিকটাতেই এখন নজর দেওয়ার আছে বাংলাদেশের। মুমিনুল তাই আজ থেকে শুরু দ্বিতীয় টেস্টে গতবারের সুফলগুলোই আনতে চান।
প্রথম টেস্ট হারের পর আগে বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই যত বিপত্তি। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরোনোর মতো আগে বলের সিদ্ধান্ত যে গুটি কয়েকজনের কারণে হয়েছে তা বেরিয়ে আসে। অভিজ্ঞদের পরামর্শেই নাকি আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাই ডমিঙ্গোর পরামর্শের পরও টস জিতে বোলিং নেন মুমিনুল। এখানে নাকি মুমিনুলেরও করার কিছু ছিল না। এইসব গুঞ্জন যখন চারদিকে ঘুরছে তখন ক্রিকবাজকে বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপন বললেন, কোচের কথা অভিজ্ঞরা শুনে না। তার পরদিনই দেখা গেল কোচ ডমিঙ্গোর সঙ্গে লম্বা আলোচনায় তামিম ইকবাল। পোর্ট এলিজাবেথ স্টেডিয়ামের একটি বেঞ্চে বসে অনুশীলনের সময় কোচের সঙ্গে তামিমের আলোচনার ছবি এখন নেট দুনিয়ায়। তাতে কোচ-অভিজ্ঞ ব্যাটারের মধ্যে ম্যাচ নিয়েই কথা হয়েছে না ভিন্ন কিছু তা জানা যায়নি। এদিকে বাইরের ঝড় যে দলের ভেতরকেও ছুঁয়ে গেছে তা স্পষ্ট করে দেন মুশফিকুর রহিম। গতকালই নিজের টুইটার পোস্টে এই অভিজ্ঞ ব্যাটার জানান, ‘কিছু রিপোর্টের কারণে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা এখন ভিলেন হয়ে গিয়েছে।’ মুশফিকের এই পোস্টে সব স্পষ্ট হয়ে গেল। দ্বিতীয় টেস্টের আগে দল যে নিজেদের গোছাতেই ব্যস্ত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যে কঠিন।
মুমিনুল হক অবশ্য নিজেদের শান্ত থাকার কথাই জানালেন। গুজব-গুঞ্জন উড়িয়ে জানালেন দল হিসেবে মানসিকভাবে সবাই শক্ত ও ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। বাইরের কোনো খবর তাদের মানসিকতা দুর্বল করছে না, ‘আমরা মানসিকভাবে কোনোভাবে হারিনি। হারলে তো চার দিন ভালো খেলতাম না। মানসিকভাবে সবাই শক্ত আছি। কালকের ম্যাচেও সেভাবে নামব।’
মুমিনুল শান্ত থাকছেন। ঘুরেফিরে ওপরের বিষয়ে প্রশ্নের মুখে তাকে পড়তেই হলো। টেস্ট অধিনায়ক প্রশ্ন শুনেই হাসলেন। বোঝাই যায় সব বুঝতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু এসব এড়িয়ে শুধু ম্যাচ নিয়েই উত্তর দিলেন মুমিনুল, ‘পজিটিভ ছিল না? (প্রথম টেস্টে) আমরা পাঁচ দিনের খেলায় চার দিন খুব ভালো খেলেছি। চতুর্থ দিন শেষ সেশনটা আমরা খুব বাজে খেলেছি। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। পজিটিভ অনেক কিছু ছিল। তাসকিন ভালো বোলিং করেছে, খালেদ ভালো বোলিং করেছে। জয় খুব ভালো ইনিংস খেলেছে, লিটনও খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। মোটামুটি সবাই রানে আছে, টিম ওয়াইজ খালি আমরা শেষ সেশনটা খুব বাজে ব্যাটিং করে ফেলেছি। ওটা বাদ দিলে আমার কাছে মনে হয় সবাই খুব ভালো মেজাজে আছে, সবাই ফুরফুরে আছে, সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী আছি পরের টেস্ট নিয়ে।’
তবুও প্রথম টেস্ট নিয়ে কথা বলতেই হলো মুমিনুলকে। ওই টেস্টের নেতিবাচক দিকগুলো নাড়া দিচ্ছে অধিনায়ককে। মুমিনুলের মতে প্রথমত তাকে রানে ফিরতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হওয়া মানায় না। তাই মুমিনুল নিজে রান করতে চান। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে বাজে ব্যাটিং কাটিয়ে উঠতে চান এবার, ‘এ টেস্টে অবশ্যই আমি কিছু পরিবর্তন চাই। যেমন দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি। এই জায়গায় হয়তো আমাদের আরেকটু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে। ওই জিনিসটা আমরা কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারি এগুলো আমার কাছে মনে হয় ভাবতে হবে। আমরা আবার ওই সিচুয়েশনে পড়লে কী করব এগুলো চিন্তা করতে হবে।’
বাংলাদেশকে এখন এভাবেই ভাবতে হচ্ছে। নেতিবাচক দিক মাথায় আনলেই সমস্যা। সব কঠিন অবস্থার মাঝে নিকট অতীতে অনেকবারই ভালো কিছু করে ফিরেছে বাংলাদেশ। তাতে সব গুঞ্জন-গুজবও থেমেছে। ঐতিহাসিক সাফল্যের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষটা সেই রকম ভালো কিছু আনুক এটাই প্রত্যাশা।