মানবিক চিকিৎসক হতে চান রাকিব, শ্রমিক বাবার ‘অসামর্থ্যে’ ভর্তি অনিশ্চিত!

নাটোরের ইটভাটা শ্রমিকের ছেলে রাকিব হোসেন আর্থিক সংকটের কারণে এবার মেডিকেল কলেজে চান্স পেলেও তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রাকিবের পিতা মো. আনসার আলী (৪৮) নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ভাটপাড়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ায় পরিশ্রমের আর কোনো কাজ করতে পারেন না।

সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় এই শরীর নিয়েও দুইশত টাকা হাজিরায় ইট ভাটায় বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। রাকিব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এবার চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পুরো এলাকার মানুষ খুশি হলেও হতাশায় পড়েছে তার বাবা আনসার আলী ও মা আজেদা বেগম।

রাকিব জানায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্তাজ আলী স্যারসহ বিভিন্ন শিক্ষকদের সহযোগিতায় এবং ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পাশের পর একটি বে-সরকারি ব্যাংকের সহযোগিতায় এত দূর আসতে পেরেছেন। খাতা কলম ও বই কেনার জন্য নিজেও একাধিক টিউশনি করেছেন। জীবনের চূড়ান্ত এই সময়ে অর্থের অভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তিসহ তার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নেয়ার সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। রাকিব একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চান।

দেশের হাজারো অভাবী মানুষের সেবা করতে চান। অর্থাভাবে আদৌ তার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

রাকিবের মা আজেদা বেগম বলেন, তার সন্তানের অনেক মেধা এবং অনেক স্বপ্ন থাকলেও স্বপ্ন পূরণের মতো অর্থ তাদের নেই। তাই সমাজের বৃত্তবানদের একটু সহযোগিতা পেলেই তার সন্তানের একজন মানবিক চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়া সম্ভব।