ঝালকাঠির রাজাপুরে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের মাঝে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজাপুর উপজলা পরিষদ চত্ত্বরে উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা ৯১৮ আনসার সদস্যদের এ ভাতা দেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ঝালকাঠি জেলা কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন।
ভাতা নিতে আসা আনসার সদস্যরা বলেন ,গত জুন মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্য নিয়োগ করেন এখানকার স্থানীয় কমান্ডাররা। প্রত্যেক কমান্ডার ১৭ জন করে সদস্য নিয়োগের দায়িত্ব পান। এভাবে ৫৪ ভোটকেন্দ্রে ৫৪ জন কমান্ডার ৯১৮ জন আনসার সদস্য নির্বাচন করেন। নিয়োগের সময় আমাদের একদিন ডিউটির জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন তারা। বিনিময়ে অফিস খরচ বাবদ আমাদের কাছ থেকে জন প্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করেন কমান্ডার। পরবর্তীতে আমরা কমান্ডারকে টাকা দিয়ে নিয়োগ নিয়ে নির্বাচনের ডিউটি করি।
আনসার সদস্য মো. ইকবাল, অহিদুল, ফারুক হামীম, রেক্সোনা, মনিরা, পিয়ারা ও মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। ভোটের একদিন ডিউটি করলে পাঁচ হাজার টাকা পাব সেই আশায় আমরা এক হাজার, আট শ , ছয় শ যে যেভাবে পেরেছি সামর্থ্য অনুযায়ী আমাদের কমান্ডারদের দিয়েছি। কেউ কেউ সুদে টাকা এনেও কমান্ডারকে দিয়েছে। এখন দেখি খোরাকি ও যাতায়াত ভাড়াসহ প্রত্যেককে ২২০৩ টাকা দেওয়া হচ্ছে। একদিন ট্রেনিং করলাম, ভোটের আগের দিন ভোটকেন্দ্রে গেলাম, ভোটের দিন ডিউটি করলাম এবং আজ সারাদিনসহ চারদিনের বিনিময়ে আমরা ২২০৩ টাকা করে পেলাম। এরচেয়ে বাইরে দৈনিক হিসেবে কাজ করলেও অনেক বেশি আয় করতে পারতাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপস্থিত বেশ কয়েকজন কমান্ডার আনসার সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকা শুধু আমরা স্থানীয় কমান্ডাররা খাই নাই, এর ভাগ নিয়েছে উপজেলা, জেলা কমান্ডারসহ সবাই।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ঝালকাঠি জেলা কমান্ডার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আপনাদের মাধ্যমে টাকা নেয়ার ঘটনাটি জানলাম। কোনো গ্রাম কমান্ডার আনসার সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।