মৌসুমের শুরুতে লিওনেল মেসি ও আন্তোইন গ্রিজমানকে হারানো বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে সেভিয়া থেকে ধারে আনা লুক ডি ইয়ং যেন চোখের বালিতে পরিণত হয়েছিলেন। তাকে নিয়ে অনেকে মশকারাও করেছিলেন। সেই ডাচ ফরোয়ার্ডই দলের ত্রাতা হলেন আরেকবার। লেভান্তের বিপক্ষে ২-২ অবস্থা থেকে ইনজুরি সময়ে গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি বার্সাকে। এ নিয়ে লিগে টানা ৭ ম্যাচ জিতল তারা।
এর আগেও শেষ মুহূর্তে গোল করে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেছেন। গ্রানাদা, এসপানিওল, মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচগুলোতেও এভাবে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে পয়েন্ট এনে দিয়েছেন ডি ইয়ং। লিগে এ নিয়ে ৬ গোল করেছেন ৩১ বছর বয়সী ডি ইয়ং, যার ৪টিই ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। লেভান্তের মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধে কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোলের শুরুটা করেন লেভান্তের লুইস মোরালেস। চার মিনিট পর আবারও পেনাল্টি পেয়েছিল লেভান্তে। কিন্তু এবার রজার মার্তির শট ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগান। বার্সার জার্সিতে পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াংয়ের ৮ ম্যাচে ৯ম গোলে সমতায় ফেরায় কাতালানরা। চার মিনিট পর পেদ্রির গোলে এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু ৮৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি থেকে গোল শোধ দেয় লেভান্তে। এবারো স্পটকিকে বল জালে জড়ান গনজালো মেলেরো। এরপর ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডি ইয়ংয়ের জয়সূচক ওই গোল। মাঠের বা প্রান্ত থেকে জর্দি আলবার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ডি ইয়ং।
লা লিগায় তিনটি পেনাল্টি হজম করা বার্সেলোনার প্রথম। তবে লুক ডি ইয়ংয়ের কল্যাণে বার্সেলোনা দারুণ এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে। চলতি লিগে এখন পর্যন্ত হেডে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে বার্সেলোনা (১৫টি)। ম্যাচ শেষে শিরোপা প্রশ্নের উত্তরে বার্সা কোচ জাভি বলেন, ‘কঠিন, কারণ রিয়াল মাদ্রিদ খুব কমই পয়েন্ট হারায়। তবে ওরা যদি আগামী দুই সপ্তাহে কিছু পয়েন্ট হারায়, তাহলে আমাদের বিশ্বাসে জোর পাবে।’ ৩০ ম্যাচ ৬০ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানেই আছে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭২ পয়েন্ট শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ। ৩১ ম্যাচে ৬০ পয়েন্টে তিনে সেভিয়া। কাদিজ, সোসিয়েদাদ, ভায়োকানো, মায়োর্কা, বেতিস, সেল্তা ভিগো, গেতাফে ও ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে খেলা বাকি বার্সার। রিয়ালের খেলা বাকিÑ সেভিয়া, ওসাসুনা, এস্পানিয়ল, আতলেতিকো মাদ্রিদ, লেভান্তে, কাদিজ ও বেতিসের সঙ্গে।