লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের তিস্তার চরাঞ্চলগুলো সবুজ হয়ে উঠেছিল সবুজ ফসলের সমারোহে। পলিযুক্ত বালির নি”ে বাড়ছিল কাঁচা সোনা। তরমুজগুলোও বেড়ে উঠছিল। সে এক মন ভালো করা ছবি ছিল। এখন এইসব চাষির সামনে শুধুই হাহাকার। গত সপ্তাহে তিস্তার হড়কা (আকস্মিক) বানে সর্বনাশ হয়ে গেছে পেঁয়াজ, রসুন ও তরমুজ চাষিদের।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল ও সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে, সেই পানি প্রবলবেগে নেমে আসে তিস্তায়। ভাসিয়ে নিয়ে যায় লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের শতাধিক চরাঞ্চলের ফসল। রসুন, পেঁয়াজ, আগাম ভুট্টা ও তরমুজ। কোথাও কোথাও চরের ক্ষেতেই পচে গেছে এসব সোনার ফসল।
কুড়িগ্রামের উলিপুরের দলদলিয়া ইউনিয়নের যোয়ান সাঁতরা চরের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার প্রায় এক একর জমির পেঁয়াজ ও রসুন ভেসে গেছে, পচেও গেছে। যেগুলো পচে গেছে বা পচার উপক্রম হয়েছে সেগুলো তুলে রোদে শুকিয়ে বিক্রির চেষ্টা চলছে। কিন্তু আধাপচা পেঁয়াজ কেউ নিতে চায় না। পুরোটাই বরবাদ হয়ে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘৪০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ বুনেছিলাম। কেবল বেড়ে উঠছিল। ৫ এপ্রিল রাতে সব ভেসে গেছে।’
উলিপুরের থেতরাই ইউনিয়নের অর্জুনের চর গ্রামের কৃষক ছমির উদ্দিনের কষ্টের যেন শেষ নেই। ৫০ শতাংশ জমির পেঁয়াজ সম্পূর্ণ পচে গেছে। এছাড়া তলিয়ে গেছে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ও নাজিম খাঁ ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলের পেঁয়াজ, রসুন ও স্থানীয় জাতের রোপা বোরো ধান।
উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উলিপুরে পেঁয়াজ ও রসুনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বজরা ইউনিয়নের সাদুয়া দামারহাট, থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নে। তিস্তার পানি বজরা ইউনিয়ন দিয়ে নেমে যায় বলে কৃষক তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। এসব পেঁয়াজ দেরিতে চারা বোনা হয়েছিল। ফলে এগুলো ঘরে তুলতে আরও ১৫/২০ দিন সময় লাগত। কিন্তু হড়কা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর পরিমাণ প্রায় ৪৭৫ হেক্টর।’
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ির চরের বাসিন্দা ও তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম নেতা সফিয়ার রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করে তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায়, পানির তোড়ে লালমনিরহাটে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের রসুন, পেঁয়াজ, আগাম ভুট্টা ও তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আকস্মিক বানের কারণে কেউ কোনোভাবে এসব ফসল রক্ষা করতে পারেনি। কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।’
কুড়িগ্রাম খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, ‘হঠাৎ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে যাওয়ায় উলিপুর, রাজারহাট উপজেলার প্রায় সাড়ে ছয়শ’ হেক্টর জমির পেঁয়াজ, রসুন ও তরমুজসহ বিভিন্ন ফল বিনষ্ট হয়েছে।’