আগামী বাজেটে কালোটাকা সাদার করার সুযোগ বন্ধ করে বেনামি সম্পদ বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সিপিডি মনে করে, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিলে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন, আর কর ফাঁকিবাজেরা উৎসাহিত হন। পাশাপাশি কালোটাকা সাদার করার সুযোগ দেওয়ার সমস্যা দূর করতে বেনামি সম্পদ বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সিপিডি।
আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য এসব বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাজেট সামনে রেখে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
এ ছাড়া ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশও করেছে সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। আবার করোনা মহামারির কারণে অনেকের আয় কমে গেছে। এ ছাড়া বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর আরোপ করা আছে। সিপিডির প্রস্তাব হলো—করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে করারোপ করার।
অনুষ্ঠানে শুল্ক-করসংক্রান্ত বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা; একক ব্যক্তি কোম্পানির করপোরেট করহার ৩০ শতাংশ ও সিগারেট কোম্পানির করপোরেট কর ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশ করা; কোমল পানীয়ের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি; স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামালের শুল্ক–কর কমানো; ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ভ্যাট প্রত্যাহার ইত্যাদি।
সিপিডি বলেছে, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণই এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গরিব মানুষ চাপে আছে। এ ধরনের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি। সংস্থাটি মনে করে, নিত্যপণ্যের উচ্চ মূল্য আগামী অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।