উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় ধনু নদীর পানি ফের বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
খালিয়াজুরী বাজার পয়েন্টে গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিপৎসীমার ৪.১৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হয় ধনু নদীর পানি। কমতে কমতে গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিপৎসীমার ৫৮ সে.মি. নিচে নেমেছিল।
ফের বাড়তে বাড়তে আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিপৎসীমা এক সে.মি. নিচে ৪.১৪ মি. দিয়ে ধনু নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফের শঙ্কা ও চিন্তার কথা জানালেন নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী।
এর মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে হাওর এলাকায় ৫১ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রকল্পের আওতায় ১৪৬টি ধান কাটার যন্ত্র ভর্তুকি মূল্যে (হারভেস্টার) বিতরণ করা হয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় গত বছর ১০৫টি হারভেস্টার মেশিন কৃষকের কাছে হস্তান্তরিত হয়। এর আগের বছর বিশেষ বরাদ্দের আওতায় ৭৯টি হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছিল।
খালিয়াজুরি সদর থেকে মৃণাল কান্তি দেব জানান, ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার একেবারে নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফের দেখা দিয়েছে হাওর এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক। এর মধ্যে উপজেলায় ব্রি-২৮ জাতের ৯০ শতাংশ কর্তন হলেও ব্রি-২৯ জাতের ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে এবং এই ধান আগামী ১০-১২ দিন পর কাটার উপযোগী হবে।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বিপৎসীমা অতিক্রম করে এক-দুই দিনের মধ্যে নেমে গেলে শঙ্কামুক্ত থাকা যাবে। কয়েক দিন এই লেভেলে পানি থাকলে বাঁধগুলো হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, খালিয়াজুরীতে ২০ হাজার ১২০ হেক্টরে জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান আবাদ হয়েছে। হাওর এলাকায় ১৮ হাজার নয়শো হেক্টরের চাষকৃত ধানের মধ্যে ১০ হাজার ৮৬২ হেক্টরের ফসল কর্তন করা হয়েছে। উপজেলার মোট চাষকৃত ধানের মধ্যে কর্তনের পরিমাণ ১১ হাজার ৫১০ হেক্টর।
মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৯৯৮ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় আবাদ ছয় হাজার ৫০০ হেক্টর। ইতিমধ্যে হাওরে চার হাজার ৬১৫ হেক্টরের ধান কর্তন হয়েছে। উপজেলার মোট আবাদের মধ্যে কর্তন পাঁচ হাজার ১১৫ হেক্টর জমির ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এফ এম মোবারক আলী জানান, চলতি বছরে জেলায় এক লক্ষ ৮৪ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। জেলায় হাওর এলাকায় এর পরিমাণ ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর। ইতিমধ্যে হাওরে ২১ হাজার দুইশো হেক্টরের জমির ধান কর্তন করা হয়েছে।
নেত্রকোনা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এমএল সৈকত জানান, ধনু নদীর পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এভাবে অব্যাহত থাকলে আজ শনিবার সন্ধ্যা বা রাতেই বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে হাওরে প্রায় ৫৪ শতাংশের মতো ধান কাটা হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি ও এর চাপ যদি দীর্ঘায়িত হলে তা বাঁধের জন্য চিন্তার ও মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে এমন শঙ্কার কথা জানালেন তিনি।